১ বৈঠকে সম্পূর্ণ কোরআন মুখস্ত শোনালেন ১৪৪২ জন ফিলিস্তিনি হাফেজে কুরআন

১ বৈঠকে সম্পূর্ণ কোরআন মুখস্ত শোনালেন ১৪৪২ জন ফিলিস্তিনি হাফেজে কুরআন

১ বৈঠকে সম্পূর্ণ কোরআন মুখস্ত শোনালেন ১৪৪২ জন ফিলিস্তিনি হাফেজে কুরআন

১ বৈঠকে সম্পূর্ণ কোরআন মুখস্ত শোনালেন ১৪৪২ জন ফিলিস্তিনি হাফেজে কুরআন

কুরআন সর্বশেষ আসমানী ঐশী গ্রন্থ। আল্লাহ কুরআনকে কিয়ামত পর্যন্ত মানুষের জন্য হেদায়েতের মাধ্যম হিসেবে মনোনীত করেছেন এবং পৃথিবীর শেষ দিন পর্যন্ত তা রক্ষা করার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন স্বয়ং আল্লাহ নিজেই। পবিত্র কোরআনে বর্ণিত হয়েছে, ‘নিশ্চয়ই আমি কোরআন অবতীর্ণ করেছি এবং অবশ্যই আমিই তার রক্ষক।’ -(সুরা হিজর, আয়াত : ৯)

হাফেজরা সর্বশ্রেষ্ঠ বাণী কোরআনের ধারক। একাধিক আয়াত ও হাদিসে কোরআনের ধারক-বাহক হাফেজদের বিশেষ মর্যাদার কথা ঘোষণা করা হয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘নিশ্চয়ই তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম ওই ব্যক্তি যে নিজে কোরআন শেখে এবং অন্যকে শিক্ষা দেয়। ’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৫০২৮)

সম্পূর্ণ কুরআন মুখস্থ করা মোটেও সহজ কাজ নয়। এ জন্য একজন হাফেজকে কোরআন তেলাওয়াতে হাজার হাজার  ঘণ্টা সময় দিতে হয়। আবার হাফেজ হওয়ার পরও হিফজ ধরে রাখার জন্য তাদের প্রচুর কোরআন তেলাওয়াত করতে হয়। এবং বেশি বেশি কুরআন তিলাওয়াতকারীদের মহানবী (সা.) আল্লাহর পরিজন বলে সম্বোধন করেছেন।

আনাস বিন মালিক (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, কিছু মানুষ আল্লাহর পরিজন। সাহাবিরা জিজ্ঞেস করেন, হে আল্লাহর রাসুল, তারা কারা? তিনি বলেন, কোরআন তিলাওয়াতকারীরা আল্লাহর পরিজন এবং তাঁর বিশেষ বান্দা।’ (ইবনে মাজাহ)

আর সেই প্রেক্ষিতেই ফিলিস্তিনির মত কঠিন এক মুসলিম জনপদের হাফেজে কোরআনরা একটি চমৎকার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন কারণ; ফিলিস্তিন মানে নির্যাতনের শিকার এক মুসলিম জনপদের নাম। সেখানে ফিলিস্তিনি যুবকরা বছরের পর বছর ধরে ইসরায়েলি সেনাদের গুলিতে নিহত হয়েছে। প্রায়ই বোমা হামলা চালানো হয় যাতে অসহায় মানুষ নির্মমভাবে নিহত হয়। প্রায় দিনই গুলি করে হত্যা করে তাদের বাড়িঘর থেকে উচ্ছেদ করা হয়েছে। অল্প পরিমাণ জমি এখন কিছু ফিলিস্তিনিদের দখলে। বাকিরা না হয় পালিয়ে বিভিন্ন ক্যাম্পে বসবাস করছেন।

১৪৪২জন  হাফেজ অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড গাজায় এক সভায় পুরো পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করেন। এ উপলক্ষে তাদের বিশেষ সম্মাননা দেওয়া হয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার (৩১ আগস্ট) গাজা শহরের ইয়ারমুক স্টেডিয়ামে এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তাদের এই সম্মাননা দেওয়া হয়।

গাজার ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় বেসরকারি সংস্থা দারুল কোরআন আল-করিম ওয়াস সুন্নাহ এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। ‘সাফওয়াতুল হুফ্ফাজ’ প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্বে তারা একটি মিটিংয়ে পুরো কুরআন মুখস্ত করার শুনানিতে অংশ নেন।

দারুল কুরআন আল-করিম এর পরিচালনা পর্ষদের প্রধান আবদুর রহমান আল-জামাল বলেন, ‘পবিত্র কোরআনের মর্যাদা সবার হৃদয়ে তুলে ধরতে আমরা উদ্যোগ নিয়েছি। যারা এক বসায় পুরো কোরআন তেলাওয়াত করেছেন তাদের আমরা সম্মানিত করেছি। যারা পবিত্র কোরআন মুখস্থ করবে এবং তা সংরক্ষণের উদ্যোগ নেবে মহান আল্লাহ তাদের মর্যাদা বৃদ্ধি করবেন।

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা খুবই খুশি যে এখন এক  বৈঠকে কোরআন তেলাওয়াতের আগ্রহ তৈরি হয়েছে। আমাদের উদ্যোগে দৃষ্টি প্রতিবন্ধী, শারীরিক প্রতিবন্ধী, শিশুসহ বিভিন্ন পেশার বিভিন্ন বয়সের নারী-পুরুষ অংশ নিয়েছে। তাই দৃঢ় ইচ্ছাশক্তি থাকলে কোনো কিছুই কুরআন মুখস্থ করতে বাধা হতে পারে না।

এর আগে গত ১৫টি ‘সাফওয়াতুল হুফফাজ’ প্রকল্পের প্রথম পর্বে ১৪৭১ জন হাফেজ এক বসায় পুরো কুরআন তেলাওয়াত করেন। এতে শিক্ষক, চিকিৎসক, সেনা কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন পেশার নারী-পুরুষ অংশ নেন।

এতে আট বছর বয়সী শিশু থেকে ৭২ বছর বয়সী পর্যন্ত অন্তর্ভুক্ত ছিল। সোশ্যাল মিডিয়ায় তাদের কোরআন তেলাওয়াতের ছবি ও ভিডিও সবার নজর কেড়েছে।

দারুল কুরআন ওয়াস সুন্নাহ ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকার একটি সমাজসেবামূলক প্রতিষ্ঠান। এটি ১৯৯২ সালে সমস্ত বয়সীদের মধ্যে পবিত্র কোরআন ও হাদিসের শিক্ষা প্রচারের জন্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। কাতারসহ বেশ কয়েকটি দেশ গাজায় শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনায় এই প্রতিষ্ঠানটিকে সমর্থন করে।

গত বছর সংগঠনটি প্রথমবারের মতো সভায় কোরআন তেলাওয়াতের আয়োজন করে। এতে ৫৮১ জন হাফেজ অংশগ্রহণ করেন।

পরিশেষে বলতে চাই, নবীজি (স.) সাহাবায়ে কেরামকে কোরআনের ধারক-বাহকদের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের প্রতি উৎসাহ দিয়েছেন। যারা ৩০ পারা কোরআন হেফজ করে তা ধরে রাখে, তার ওপর আমল করে, তারাও সেই সম্মানের যোগ্য। আবু মুসা আল-আশআরি (রহ.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, নিশ্চয়ই বৃদ্ধ মুসলিমকে সম্মান করা, কোরআনের ধারক-বাহক ও ন্যায়পরায়ণ শাসকের প্রতি সম্মান দেখানো মহান আল্লাহর প্রতি সম্মান প্রদর্শনের অন্তর্ভুক্ত।’ (আবু দাউদ)

আরও পড়ুন

এক মাদ্রাসা থেকেই ১০ লাখ কুরআনের হাফেজ

তুরস্কে ১০০১ কুরআনের হাফেজকে দেয়া হলো বিশেষ সম্মাননা

গুলশানে কুরআন শিক্ষা কেন্দ্র থেকে তারাবীহ নামাজরত ইমামসহ ১৭ জনকে তুলে নিল পুলিশ

আর শুধু হাফেজই নয় ,কেয়ামতের দিন কোরআনের হাফেজদের মা-বাবাকে বিশেষ সম্মান দেবেন আল্লাহ তায়ালা। এ বিষয়ে হজরত সাহল ইবনু মুআজ আল-জুহানি (রহ.) তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন-

রাসুল (স.) বলেছেন, যে ব্যক্তি কোরআন পাঠ করে এবং তা অনুযায়ী আমল করে, কেয়ামতের দিন তার মা-বাবাকে এমন মুকুট পরানো হবে যার আলো সূর্যের আলোর চেয়েও উজ্জ্বল হবে। ধরে নাও, যদি সূর্য তোমাদের ঘরে বিদ্যমান থাকে (তাহলে তার আলো কিরূপ হবে?। তাহলে যে ব্যক্তি কোরআন অনুযায়ী আমল করে তার ব্যাপারটি কেমন হবে, তোমরা ধারণা করো তো!’ (আবু দাউদ)

    Leave a Reply

    Your email address will not be published.

    X