৭০ বছর বয়সে সম্পূর্ণ কুরআন মুখস্ত করেন ফিলিস্তিনি নারী বেগম আয়েশা

৭০ বছর বয়সে সম্পূর্ণ কুরআন মুখস্ত করেন ফিলিস্তিনি নারী বেগম আয়েশা

৭০ বছর বয়সে সম্পূর্ণ কুরআন মুখস্ত করেন ফিলিস্তিনি নারী বেগম আয়েশা

৭০ বছর বয়সে সম্পূর্ণ কুরআন মুখস্ত করেন ফিলিস্তিনি নারী বেগম আয়েশা

কিসের প্রতি আপনার চূড়ান্ত ভালোবাসা, কোন জিনিসের প্রতি আপনার আবেগ, আপনার জীবনের আবেশ, কোন জিনিসের আকর্ষণে আপনি থেমে যাবেন।  আপনার চাওয়া-পাওয়ার সকল কিছু কোথায় ব্যাপৃত। কাকে ভালবাসলে আপনি ভালোবাসার পূর্ণতায়, উচ্চ শিখরে পৌছাতে পারেন। তাকে পাইলে, তাকে আঁকড়ে ধরলে আপনি জীবনের সবচেয়ে বড় আকাঙ্ক্ষাকে বাস্তবে পরিণত করলেন ।যাকে একমাত্র শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত কোন পরিবর্তন আর পরিবর্ধন এবং কোনপ্রকার হেজিটেশন ছাড়াই মুখস্ত  বলে দিতে পারবেন । কিসের আবৃতি শুনলে আপনি আকুল হয়ে যাবেন , আপনার কোনুরূপ দুঃখ কষ্ট থাকবেনা।   তাকে ঘিরেই আপনার জীবন,আপনার জীবনাবসান। সেটার একটাই উত্তর হতে পারে সেটা আল-কোরআন।  সে কুরআনকে মুখস্ত করতে বয়স কোন সীমাবদ্ধতা নয়। বয়স কোনো বাধা হয়ে দাঁড়ায় না।  সেই ৬ বছর থেকে শুরু করে ৭০ পর্যন্ত।  আপনার জীবন যতদিন লেখা তার আগ পর্যন্ত আপনি সে কোরআনকে মুখস্থ করে যেতে পারেন।  সিদ্ধান্ত নিতে পারেন আজ থেকে শুরু হোক আপনার কোরআন মুখস্থ করার প্রথম দিন। আল্লাহ তার মুখের কথাকেই আমাদের অন্তরে গেঁথে আমাদের মুখ দিয়ে তিলাওয়াত করার এবং তাকে মুখস্থ করে হাফেজ হওয়ার সৌভাগ্য দান করুক , আমিন।

বয়স ৭০, বেগম আয়েশা। জীবনের ৬৫টি বছর পার করেছি । শূন্যতা প্রবলভাবে অনুভব করছি- আমি কুরআনের হাফেজ নই। অথচ এই বয়সে কুরআন মুখস্ত করা কি সহজ! তারপরও মনে শান্তি পাচ্ছেননা। এই শূন্যতা বারবার বিদ্ধ করে চলছে মহীয়সীর মন । ফলে কুরআন মুখস্থ করার আগ্রহ প্রবল হয়ে ওঠে তাঁর।

অবশেষে তিনি সিদ্ধান্ত নিলেন যে যেভাবেই হোক তিনি কুরআন মুখস্থ করবেন। আল্লাহর উপর ভরসা করে কুরআন মুখস্ত করা শুরু করেন। এক মাস চলে যায়। দুই মাস কেটে যায়। বছর কেটে যায়। তবে কুরআন মুখস্ত করা শেষ হয় না। তিনি হতাশ হয়ে পড়েন। তিনি থেমে যেতে চান। এ সময় এগিয়ে আসেন তার স্বামী। উৎসাহ দিয়ে পাশে থাকেন । তিনি বলেন, হাফেজ হতে চাইলে থামা যাবে না। তিনি  আবার এগিয়ে চলেন। ক্লান্তি তাকে আবার আঘাত করে। স্বামী তখনও অনুপ্রেরণা হয়ে ওঠেন । এগিয়ে যেতে থাকেন । এভাবেই তিনি বয়স ও হতাশা কাটিয়ে উঠলেন। কুরআন হিফজ সম্পন্ন করলেন। ইতিমধ্যে পাঁচ বছর পেরিয়ে গেছে।

আয়েশা বেগম জীবনের শুরুতে কুরআন মুখস্ত করতে পারেননি। এ নিয়ে তার আক্ষেপের শেষ নেই। তিনি চান আগামী প্রজন্ম যেন আফসোস না করে। জীবনের উজ্জ্বল আলোয় তারা কুরআন মুখস্থ করেন। সেজন্য ছোটবেলা থেকেই নাতি-নাতনিদের কোরআন শেখাচ্ছেন। এভাবেই বাকি জীবন কাটাতে চান ৭০ বছর বয়সী আয়েশা।

বেগম আয়েশা, এই জগতের তারকা নারীদের একজন। যিনি আমাদের শ্রদ্ধার প্রতীক । যিনি লক্ষ লক্ষ,কোটি কোটি হাফেজ এবং মুসলিমের চলার প্রতীক। সেই মহীয়সী-সম্মানিত মাতাকে আমরা অগণিত সশ্রদ্ধ সালাম জানাই।

 (আহমাদুল্লাহ )

    1 Comment

    Leave a Reply

    Your email address will not be published.

    X