May 25, 2024

Warning: Undefined array key "tv_link" in /home/admin/web/timetvusa.com/public_html/wp-content/themes/time-tv/template-parts/header/mobile-topbar.php on line 53
রোগ প্রতিরোধে মুহাম্মাদ রাসূলুল্লাহ (স.) এর নির্দেশনা

রোগ প্রতিরোধে মুহাম্মাদ রাসূলুল্লাহ (স.) এর নির্দেশনা

রোগ প্রতিরোধে মুহাম্মাদ রাসূলুল্লাহ (স.) এর নির্দেশনা

রোগ প্রতিরোধে মুহাম্মাদ রাসূলুল্লাহ (স.) এর নির্দেশনা

সলাম একটি চ্যালেঞ্জ গ্রহণকারী সার্বজনীন জীবন ব্যবস্থার নাম। এটা অনুমান নির্ভর কোন ধর্ম নয়। তাই বিজ্ঞান যতদিন পর্যন্ত ইসলামের নির্দেশনা পর্যন্ত না পৌঁছবে, বলা যাবে সেটা বিজ্ঞানই নয় । তাই খোদার দুনিয়ার উম্মতের সবচেয়ে বড় ডাক্তার মুহাম্মাদ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রোগ প্রতিরোধে যে দিক নির্দেশনা দিয়েছেন । অত্যাধুনিক বিজ্ঞান এবং পৃথিবী যতদিন থাকবে এই  সকল চিকিৎসা বিজ্ঞান সেটাকে সাদরে গ্রহণ করবে এবং করছে ।  এবং তাতেই সবচেয়ে বেশি কল্যাণ।

বলা হয় স্বাস্থ্যই সম্পদ। তাই মানুষের শারীরিক, মানসিক ও আধ্যাত্মিক সুস্থতাকে আল্লাহ প্রদত্ত বড় আমানত বলা হয়। এ হাদীস শরীফে হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন- ‘অধিকাংশ মানুষ দু’টি নেয়ামত সম্পর্কে উদাসীন ও প্রতারিত। সেগুলো হলো- স্বাস্থ্য ও অবসর। – সহীহ বোখারী

কিয়ামতের দিন মানুষকে যে নিয়ামত জিজ্ঞাসা করা হবে তার মধ্যে প্রথম প্রশ্নটি হবে স্বাস্থ্য সম্পর্কে। তাকে বলা হবে, আমি কি তোমাকে শারীরিক সুস্থতা দেইনি? -সুনানে তিরমিযী

ইসলাম অনুযায়ী, অসুস্থ হলে চিকিৎসা নেওয়ার চেয়ে স্বাভাবিক অবস্থায় স্বাস্থ্য বজায় রাখার জন্য স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা উত্তম। আধুনিক চিকিৎসাও এই কথা বলে। অর্থাৎ প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধই উত্তম। অসুস্থ হলে ইসলামী শরীয়তের দৃষ্টিতে তাৎক্ষণিক চিকিৎসা নেওয়া জরুরি। রাসুল (সাঃ) অসুস্থ হলে তিনি নিজে চিকিৎসা নিতেন এবং তাঁর অনুসারীদেরকে চিকিৎসা নিতে উৎসাহিত করতেন।

নবী করিম (সাঃ) মানবজাতিকে স্বাস্থ্যের জন্য বেশ কিছু নির্দেশনা দিয়েছেন, এগুলো মেনে চললে স্বাস্থ্য নিশ্চিত হয়। সেই নির্দেশাবলীর মধ্যে একটি হল-

এক. মানুষ সাধারণত খাবার ও পানীয়ের মাধ্যমে অসুস্থ হয়ে পড়ে। সে হিসেবে সকল রোগের মূল কেন্দ্র হচ্ছে মানুষের পাকস্থলী। তাই খাদ্য গ্রহণের ক্ষেত্রে পরিমিত পরিমাণে খাদ্য গ্রহণ করা উচিত। ইসলাম এ ব্যাপারে মধ্যপন্থার নির্দেশ দেয় এবং অতিরিক্ত খাওয়াকে নিরুৎসাহিত করে।

হাদিসে বর্ণিত আছে, হজরত রাসূলে আকরাম (সা.) বলেছেন, ‘পাকস্থলীর এক-তৃতীয়াংশ খাবারের জন্য, এক তৃতীয়াংশ পানের জন্য এবং এক তৃতীয়াংশ শ্বাস-প্রশ্বাসের জন্য খালি রাখুন। -সুনানে ইবনে মাজাহ

দুই. খাবার ও পানীয় ঢেকে রাখুন। হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) সব সময় খাবার ও পানীয় ঢেকে রাখার জন্য জোরালো তাগিদ দিয়েছেন। কারণ,খাবার ও পানীয় না ঢেকে রাখলে এতে মানুষের মৃত্যুর পাশাপাশি অসুস্থতার আশঙ্কা রয়েছে।

হাদিসে উল্লেখ আছে যে, হজরত রাসূলে আকরাম (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা খাবার ও পানীয় ঢেকে রাখ, মাশকে র (পানির পাত্র) মুখ বন্ধ কর, বাতি নিভিয়ে রাখ এবং ঘরের দরজা বন্ধ কর। কারণ শয়তান বন্ধ ফাঁদ খুলতে পারে না, বন্ধ দরজা খুলতে পারে না এবং বন্ধ পাত্র খুলতে পারে না। তোমাদের কেউ যদি পাত্র ঢেকে রাখার মতো কিছু না পায়, সে যেন এক টুকরো কাঠ আড়াআড়িভাবে রেখে আল্লাহর নাম স্মরণ করে।’ -সুনানে ইবনে মাজাহ

তিন. খাবারে ফুঁ না দিয়ে খাবার শুরু করা। খাদ্য ও পানীয়ের শ্বাস-প্রশ্বাসের কারণে অনেক রোগ হতে পারে। হজরত আবু সাঈদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত, হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) পানীয়ের ওপর ফুঁ দিতে নিষেধ করেছেন। একজন অনুরোধ করলেন, পাত্রে মাঝে মাঝে ময়লা দেখা গেলে কী করবেন? তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, তিনি (সা.) বললেন, ‘তা ঢেলে ফেলে দেবে।’ –সুনানে তিরমিজি

আধুনিক বিজ্ঞান বিষয়টিকে চর্চা করার জোরালো পরামর্শ দিয়েছে। কারণ, পানীয়তে ফুঁ দিয়ে পান করলে তাতে কার্বন ডাই অক্সাইড মিশে আমাদের শরীরে ক্ষতিকর জটিলতা তৈরির আশঙ্কা থাকে।

চার. প্রত্যেকেরই হাত পরিষ্কার রাখার অভ্যাস থাকা উচিত। যার মাধ্যমে সহজেই রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। হাত বিভিন্ন ধরনের জীবাণু বহন করে এবং বিভিন্ন স্বাস্থ্য ঝুঁকি বাড়ায়। তাই রোগমুক্ত থাকতে হলে নিয়মিত হাত ধোয়া উচিত। একটি ভাল হাত ধোয়ার অনুশীলন একটি ভাল ভ্যাকসিনের চেয়েও বেশি কিছু করে। তাই খাওয়ার আগে ও পরে হাত ধোয়ার নির্দেশ ইসলামে এসেছে দেড় হাজার বছর আগে।

হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) খাওয়ার আগে হাত ধোয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। আম্মাজান হজরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত। হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) খাওয়ার আগে উভয় হাত কব্জি পর্যন্ত ধৌত করতেন।’ -মুসনাদে আহমাদ

আরও পড়ুন

জমজমের পানি

বাথরুমে ফোন ব্যবহার করা উচিত নয় কেন?

ইসলামে পশু-পাখির অধিকার

আবার পায়খানার পানি ব্যবহার করার পর রাসূল (সা.) বের হয়ে মাটিতে হাত মুছতেন। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) যখন টয়লেটে যেতেন, আমি তার জন্য একটি পিতল বা চামড়ার পাত্রে পানি নিয়ে যেতাম। তারপর তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইস্তেঞ্জা করতেন এবং মাটিতে হাত ঘষতেন।’ -সুনানে আবু দাউদ

পাঁচ. শারীরিক স্বাস্থ্যের পাশাপাশি মানসিক স্বাস্থ্যও জরুরি। বরং মানসিক স্বাস্থ্য শারীরিক সুস্থতার পূর্বশর্ত। কারণ মানসিক প্রশান্তি ও প্রফুল্লতা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। মানসিক দুশ্চিন্তা ও অস্থিরতা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দেয়। তাই ইসলাম মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্যের কথা মাথায় রেখে বৈবাহিক জীবন ব্যবস্থাকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়েছে। তা ছাড়া ইসলামের ইবাদত ও জিকির-আজকারের মাধ্যমেও মানসিক প্রশান্তি পাওয়া যায়।

পবিত্র কোরআনে আল্লাহ বলেন, ‘জেনে রাখ! আল্লাহর স্মরণে অন্তর প্রশান্ত হয়।’ – সূরা রাদ: ২৮

ছয়. পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ইসলামের মৌলিক নির্দেশ এবং ঈমানের অংশ। পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে। কারণ, পরিবেশ দূষণের কারণে মানব সমাজে নানা রোগ ছড়ায়।

হাদিসে এসেছে, হজরত রাসূলে কারিম (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা তোমাদের ঘরের আঙিনার সব দিক পরিষ্কার রাখবে। ইহুদীদের অনুকরণ করবেন না। তারা বাড়িতে আবর্জনা জমা করে।’ – সুনানে তিরমিযী

তা ছাড়া যদি কেউ মিসওয়াক, অযু, গোসল, পোশাক-পরিচ্ছদ ইত্যাদি বিষয়ে ইসলামী নির্দেশনা মেনে চলে, তাহলে সে অপবিত্রতাজনিত রোগ থেকে নিরাপদ থাকবে।

সাত. সর্বত্র মলত্যাগ করা নিষিদ্ধ। কারণ তাতে  রোগ ছড়ানোর আশঙ্কা থাকে। হাদিসে উল্লেখ করা হয়েছে, হজরত রাসূলে কারিম (সা.) বলেছেন, ‘তিন অভিশপ্ত ব্যক্তিকে এড়িয়ে চলুন। তারা হলো- যে পানির ঘাটে, রাস্তার ওপর ও গাছের ছায়ায় মলমূত্র ত্যাগ করে। -সুনানে আবু দাউদ

এক কথায় আধুনিক বিজ্ঞান মানবদেহের রোগাক্রান্ত দিক নির্ণয় করে এর প্রতিষেধক আবিষ্কার করেছে। প্রায় দেড় হাজার বছর পূর্বে মানবতার কল্যাণ ও মুক্তির মূল ভিত্তি মহানবী হযরত মুহাম্মদ সা.-এর কথা কুরআন ও হাদিসে পরিপূর্ণভাবে বর্ণিত হয়েছে। সুতরাং বলা যায় যে, ইসলাম এমন একটি জীবন ব্যবস্থার নাম, যেখানে মানবতার কল্যাণ ও সফলতার জন্য যেসব পদক্ষেপ নেওয়া দরকার, তা করা হয়েছে।

    2 Comments

    Leave a Reply

    Your email address will not be published.

    X