জিলকদ মাসের গুরুত্ব ও আমল

জিলকদ মাসের গুরুত্ব ও আমল

জিলকদ মাসের গুরুত্ব ও আমল

জিলকদ মাসের গুরুত্ব ও আমল

টানা চার মাসের ইবাদত (রজব, শাবান, রমজান ও শাওয়াল) শেষে আসে হিজরি ক্যালেন্ডারের একাদশ মাস জিলকদ।জিলকদ মাসের প্রকৃত আরবি নাম ‘যুলকাদ’। ফারসিতে ‘জিলক্বাদাহ’; উর্দুতে ‘জিলকাদ’ এবং বাংলায় জিলকদ,যুলক্বাদ বা জিলকাদ যার  অর্থ বসা, বসতি বা বিশ্রাম করা।

ইসলামের অনেক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা জিলকদ মাসে ঘটেছে। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য কিছু নিম্নে দেয়া হলঃ
  • ইসলাম জিলকদ মাসে সবরকমের যুদ্ধকে হারাম করেছে।
  • এই মাসেই বাইয়াতে রেদোয়ান অনুষ্ঠিত হয়।
  • ১ জিলক্বদ: হুদায়বিয়ার সন্ধি হয় এবং হযরত আলী ও ফাতিমা রাদিয়াল্লাহু আনহুমার বিবাহ সংঘটিত হয়।
  • ৮ জিলক্বদ: মুসলমানদের জন্য হজ ফরজ হয়।
  • ১৭ জিলকবাদ: খন্দকের যুদ্ধ সংঘটিত হয়।
  • ২৫ জিলক্বদ: হজরত ইব্রাহিম (আ.) ও হজরত ঈসা (আ.) এর জন্ম। পবিত্র কাবা শরীফকে পৃথিবীতে প্রথম ভিত্তি স্থাপন করা হয়।
  • ২৫ জিলকদ: বিদায় হজ্জের জন্য মদিনা থেকে মক্কার উদ্দেশ্যে যাত্রা।
  • ২৭ জিলক্বদ: হযরত ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু আহত হন।
  • ৭ম হিজরির: জিলকদ মাসে প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রথম ওমরাহ পালন করেন।
  • এমনকি এই মাসেই প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর জীবনের সমস্ত ওমরাহ পালন করেছেন।

ঈদ-উল-ফিতর এবং ঈদুল আযহার মধ্যবর্তী এই জিলকদ মাসটিকে জিলকদ মাস বা বিশ্রামের মাস বলা হয় কারণ এখানে আমল করার  কোনো নির্দিষ্ট বাধ্যবাধকতা নেই (দিনে পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ সালাত ব্যতীত)।

এই সময়ে প্রাচীন আরবের লোকেরা বাণিজ্য থেকে ফিরে আসত এবং যুদ্ধবিরতিতে যেত। সেজন্য এ মাস বিশ্রামের। ঋতু পরিবর্তনের এ সময়ে স্থানীয় আরব জনগণের তেমন কোনো কাজ ছিল না। আরব সংস্কৃতি অনুসারে, তারা এই মাসে যুদ্ধ থেকে বিরত থাকত এবং অন্যায় (মদ্যপান) থেকে বিরত থাকার চেষ্টা করত। এসব কারণে এ মাসকে বিশ্রাম হিসেবে ধরা হয়।

জিলকদ মাসের আগে ও পরের মাসগুলোতে বিভিন্ন ফরজ-ওয়াজিব ও গুরুত্বপূর্ণ নফল ইবাদত রয়েছে, জিলকদ মাসে পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ সালাত ব্যতীত বিশেষ কোনো আমলের কথা কুরআন ও হাদীসে উল্লেখ করা হয়নি। ফলে পরবর্তী মাসগুলোর গুরুত্বপূর্ণ কাজের প্রস্তুতি নিতে বান্দা এ মাসে কিছুটা বিশ্রাম পায়। তাই এ মাসকে জিলকদ বা বিশ্রামের মাস বলা হয়।

নফল ইবাদতঃ

তবে জিলকদ মাসের সাথে কোনো বিশেষ আমল না থাকলেও অন্যান্য আমল রয়েছে এবং এই আমলগুলোকে গুরুত্ব সহকারে পালন করা মুমিনের কর্তব্য। অন্যান্য চান্দ্র মাসের মতো, এই মাসের ১৩, ১৪ এবং ১৫ তারিখে (আয়ামে বিজ) রোজা পালন করা যেতে পারে এবং এটি অত্যন্ত পুণ্যময়। এছাড়া সাপ্তাহিক সোম ও বৃহস্পতিবার রোজা রাখাও সুন্নত।

এ ছাড়া অন্যান্য মাসের সাধারণ নফল নামাজ, তিলাওয়াত, জিকির-আজকার, তাসবিহ-তাহলিল ইত্যাদি পাঠ করা যায়। বেশি বেশি কোরআন তেলাওয়াত ও নফল নামাজ বেশি। বেশী বেশী দানও করা যায়।

কুরবানির প্রস্তুতিঃ

এই মাসে কুরবানির প্রস্তুতিও নেয়া যেতে পারে কাদের সাথে কুরবানী দেওয়া যায় কিভাবে দেওয়া যায় তার একটি আর্থিক মানসিক এবং সামাজিক প্রস্তুতি নেয়া যেতে পারে এ মাসে তাতে আল্লাহর দরবারে একটি বড় ইবাদতের প্রস্তুতি হিসেবে সব লেখা হবে

    Leave a Reply

    Your email address will not be published.

    X