দুই ট্রেনে অগ্নিসংযোগ বিচারঃ গতির দুর্গতি

দুই ট্রেনে অগ্নিসংযোগ বিচারঃ গতির দুর্গতি

দুই ট্রেনে অগ্নিসংযোগ বিচারঃ গতির দুর্গতি

দুই ট্রেনে অগ্নিসংযোগ বিচারঃ গতির দুর্গতি

কোন সন্ত্রাসী ঘটনা ঘটার সাথে সাথেই যখন কোন দলকে কেন্দ্র করে তাদেরকে দোষারোপ করে ফেলা হয় এবং পুলিশ ডিবি সহকারে সবাই একই কাজ করে; তখনই সে তদন্ত অগ্রসর না হওয়ার বড় লক্ষণ প্রকাশ হয়ে যায় । যেটা বাংলাদেশে অনেক সন্ত্রাসী ঘটনারই ঐতিহাসিক সাক্ষী । সেটা অগ্নি সংযোগ, খুন বা বড় কোন ঘটনা সব ক্ষেত্রেই দৃশ্যমান।

যেখানে আমরা সাগর রুনি হত্যা মামলার অগ্রগতিকে দেখেছি। আর আটচল্লিশ ঘন্টার আল্টিমেটাম মন্ত্রীর কথায় ৪৮ বছরের বেশি লাগার সম্ভাবনা রয়েছে, সেখানে ভিকটিমের পরিবারের লুকিয়ে রাখা দুঃখ কষ্টের প্রজন্মও শেষ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনাই থাকে প্রতুল । সেখানে বিচারের অগ্রগতির স্থলে গতির দুর্গতি ছাড়া কিছুই পরিলক্ষিত হয় না।

আর এভাবে চাপিয়ে দেওয়া অভিযোগের ভিত্তিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দায়মুক্তি ছাড়া আর কিছুই নয়। এবং সরকার দলগুলোর অন্য কোন বড় অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাকে চাপা দেওয়ার নির্মম প্রয়াস বৈ আর কি? ।  সেটার ব্যতিক্রম হয়নি দুই ট্রেনের অগ্নি সংযোগের ঘটনার ক্ষেত্রেও  । আমরা বিষয়টি নিয়ে কিঞ্চিৎ আলোকপাত করবো।

গত ৭ জানুয়ারি কথিত জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজধানীতে দুটি ট্রেনে অগ্নিসংযোগের তদন্তে কোনো অগ্রগতি হয়নি। ঘটনার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা জড়িতদের শনাক্ত করেছেন বলে দাবি করেছেন। পুলিশ  অগ্নিসংযোগকারী ও পরিকল্পনাকারী উল্লাখ করলে   বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) কর্মী। এর মধ্যে বিএনপির শীর্ষ নেতাসহ ১৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিবি) ও র‌্যাব।

গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে মাত্র দুজনকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে রেলওয়ে পুলিশ। দুটি ট্রেনে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় দায়ের করা দুটি মামলায় এই দুই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি ১১ জন বিএনপির বিভিন্ন রাজনৈতিক মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ১৯ ডিসেম্বর তেজগাঁও রেলস্টেশন থেকে চার-পাঁচ কিলোমিটার দূরে বনানী এলাকায় মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেস ট্রেনে আগুন দেওয়া হয়। তেজগাঁও রেলস্টেশনে ট্রেন থামার পর চার যাত্রীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় ট্রেনের গার্ড খালেদ মোশাররফ বাদী হয়ে ঢাকা রেলওয়ে থানায় একটি মামলা করেন। এ ঘটনায় ৫ জনকে আটকের কথা জানিয়েছিল র‌্যাব-৫।

গত ৫ জানুয়ারি রাত সাড়ে ৮টার দিকে গোপীবাগে বেনাপোল এক্সপ্রেস ট্রেনে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় চারজনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহতের ডিএনএ ক্রসিং টেস্টের রিপোর্ট এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এ অবস্থায় মরদেহগুলো ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চারটি মর্গে রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় ওই ট্রেনের গার্ড এসএম নুরুল ইসলাম বাদী হয়ে ঢাকা রেলওয়ে থানায় একটি মামলা করেন। এ ঘটনায় আটজনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। গ্রেফতারকৃতরা হলেন, ঢাকা দক্ষিণ মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মোহাম্মদ নবী উল্লাহ নবী, মহানগর দক্ষিণ যুবদলের সদস্য কাজী মনসুর, কামরাঙ্গীরচর থানা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক রাসেল, ওয়ার্ড যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক দেলোয়ার, কামরাঙ্গীরচর থানা যুগ্ম আহ্বায়ক সালাউদ্দিন, লালবাগ থানা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ইকবাল উদ্দিন। হোসেন স্বপন, ৫৬ নং ওয়ার্ড যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক হাসান ও কবির। তাদের মধ্যে নবী উল্লাহ নবী ও কাজী মনসুরকে তিন দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে ডিবি।

ঢাকা রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফেরদৌস আহমেদ বলেন, বেনাপোল এক্সপ্রেস ও মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেস ট্রেনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ডিবি নবী উল্লাহ নবী ও কাজী মনসুরকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। এই দুই আসামিকে দেখানো হয়েছে। অগ্নিসংযোগের ঘটনায় রেলওয়ে পুলিশের দায়ের করা দুটি মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা অগ্নিসংযোগের ঘটনার দায় স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়নি।’ আর কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমরা তাদের কাছ থেকে কিছু ক্লু পেয়েছি। তবে কারা অগ্নিসংযোগের পেছনে বা মূল পরিকল্পনাকারী তা খুঁজে বের করতে তদন্ত চলছে। এখন পর্যন্ত কোনো অগ্রগতি নেই।

বেনাপোল এক্সপ্রেস জানিয়েছে, অগ্নিসংযোগের একদিন পর ডিবি ও র‌্যাব মোট ১১ জনকে গ্রেপ্তার করেছে, যাদের বেশির ভাগই বিএনপি কর্মী। এ সময় তারাই হামলার পরিকল্পনা করেছিল বলে দাবি করা হয়। পরে গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে তিনজনকে অন্য মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে ঢাকা রেলওয়ে থানার ওসি ফেরদৌস আহমেদ বলেন, মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেস ট্রেনে অগ্নিসংযোগের পর মামলায় কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।

এদিকে, বেনাপোল এক্সপ্রেস ট্রেনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পরদিন ৬ জানুয়ারি এক সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা মহানগর পুলিশের ডিবি প্রধান সকলের পরিচিত আলচিত মুখ  মোহাম্মদ হারুন-অর-রশিদ দাবি করেন, যুবদল নেতা কাজী মনসুর আলম ট্রেনে অগ্নিকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী। হামলার পৃষ্ঠপোষক ও অর্থদাতা ছিলেন বিএনপির ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শাখার যুগ্ম আহ্বায়ক নবী উল্লাহ নবী।

ডিবি প্রধান মোহাম্মদ হারুন-অর-রশিদ দাবি ককরেন , অগ্নিসংযোগের আগে সন্ধ্যায় হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে ভার্চুয়াল কনফারেন্স কলে বিএনপি ও এর অঙ্গ সংগঠনের একাধিক নেতা বৈঠক করেন। বৈঠকে ট্রেনে আগুন দেওয়ার সিদ্ধান্ত ও নির্দেশনা দেওয়া হয়। এ ব্যাপারে যুবদল নেতা কাজী মনসুর ডিবির কাছে ১৬১ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন। এ প্রসঙ্গে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের একজন কর্মকর্তা বলেন, অগ্নিসংযোগের ঘটনায় মাত্র দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকিরা অন্যান্য মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছেন। অভিযুক্তদের ধরতে ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরার ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করছে ছায়া তদন্তকারী সংস্থা ডিবি।

এই ঘটনা আমরা দেখতে থাকি কত বছর সময় লাগে।  তবে সময় লাগার কথা নয় ।  কোনো  উদ্দেশ্য কে হাসিল করতে গিয়ে যত বছর পরেই হোক না কেন কোনরূপ যেনোতেনো তদন্ত করেই  হয়তোবা এ মামলায় কিছু লোককে সাজা দিয়ে  দেওয়া হবে গতিকে দুর্গতি দিয়ে  ঢেকে ফেলা হবে সে প্রত্যাশায় বাংলাদেশ

    Leave a Reply

    Your email address will not be published.

    X