বাংলাএকাডেমিকে অগণতান্ত্রিক স্বেচ্ছাচারী আখ্যা দিয়ে পুরস্কার ফিরিয়ে দিলেন কথাসাহিত্যিক জাকির তালুকদার

বাংলাএকাডেমিকে অগণতান্ত্রিক স্বেচ্ছাচারী আখ্যা দিয়ে পুরস্কার ফিরিয়ে দিলেন কথাসাহিত্যিক জাকির তালুকদার

বাংলাএকাডেমিকে অগণতান্ত্রিক স্বেচ্ছাচারী আখ্যা দিয়ে পুরস্কার ফিরিয়ে দিলেন কথাসাহিত্যিক জাকির তালুকদার

বাংলাএকাডেমিকে অগণতান্ত্রিক স্বেচ্ছাচারী আখ্যা দিয়ে পুরস্কার ফিরিয়ে দিলেন কথাসাহিত্যিক জাকির তালুকদার

বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার হল ১৯৬০ সালে প্রবর্তিত একটি বার্ষিক সাহিত্য পুরস্কার। এই পুরস্কারটি বাংলা সাহিত্যের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য দেওয়া হয়। ২০০৯ থেকে, চারটি শাখায় পুরস্কার দেওয়া শুরু হয়। ১৯৮৫, ১৯৯৭ এবং ২০০০ খ্রিস্টাব্দ- এই তিনবার এই পুরস্কারটি দেওয়া হয়নি।

বাংলা একাডেমি ৩ ডিসেম্বর, ১৯৫৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। ২৬ জুলাই, ১৯৬০ তারিখে, তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর বাংলা একাডেমি (সংশোধন) অধ্যাদেশ জারি করেন। এর মাধ্যমে একাডেমির কার্যক্রমে কিছু পরিবর্তন আসে। সাহিত্য পুরস্কার প্রদান এবং বাংলা ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতি চর্চার জন্য আন্তর্জাতিক পুরষ্কার প্রবর্তন। ফেলো এবং আজীবন সদস্য এবং সদস্যপদ প্রদানের জন্য তাদের কার্যাবলী সংশোধন করা হয়েছিল। ১৯৬০ সাল থেকে বাংলা একাডেমি বাংলা সাহিত্যে অবদানের জন্য পুরস্কার প্রদান করে আসছে।

১ ডিসেম্বর, ১৯৫৬-এ ড. মুহাম্মদ এনামুল হক বাংলা একাডেমির প্রথম পরিচালকের দায়িত্ব গ্রহণ করার পর, এই প্রতিষ্ঠানটি তার একাডেমিক চরিত্র এবং নির্দেশনা লাভ করে এবং ৩ রা এপ্রিল ১৯৫৭ তারিখে, পূর্ব পাকিস্তান আইন পরিষদ ‘দ্য বেঙ্গলি একাডেমি অ্যাক্ট ১৯৫৭’ পাস করে। ‘ এবং এর আইনি ভিত্তি দেওয়া হয়। এই আইন বাংলা একাডেমীকে একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা প্রদান করে।

বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কারের উদ্দেশ্য হলো বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের সমসাময়িক জীবিত লেখকদের সার্বিক মৌলিক অবদান চিহ্নিত করে তাদের সৃজনশীল প্রতিভার স্বীকৃতি দিয়ে শিক্ষা ও সংস্কৃতির ক্ষেত্রে অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করা। বাংলা সাহিত্যের ১০টি শাখায় এই পুরস্কার দেওয়া হয়। প্রতিটি পুরস্কারের মূল্য তিন লক্ষ। প্রতি বছর অনুষ্ঠিত অমর একুশে গ্রন্থমেলা ও অনুষ্ঠানের উদ্বোধনকালে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী পুরস্কারপ্রাপ্তদের হাতে পুরস্কারের চেক, সনদপত্র ও স্মারক তুলে দেন।

বাংলা একাডেমি পুরস্কার ফিরিয়ে দিয়েছেন কথাসাহিত্যিক জাকির তালুকদার। ২০১৪ সালে, তিনি কথাসাহিত্যে অবদানের জন্য পুরস্কার পান। রোববার তিনি কুরিয়ারের মাধ্যমে পুরস্কারের টাকা ও সম্মানী বাংলা একাডেমিতে ফেরত পাঠান।

জাকির তালুকদার নিজেই সংবাদমাধ্যমকে এ তথ্য জানিয়েছেন। বাংলা একাডেমি তার মান ধরে রাখতে পারেনি বলে অভিযোগ করেন কথাসাহিত্যিক জাকির সংবাদমাধ্যমকে বলেন, বাংলা একাডেমির গণতন্ত্রের অভাব, আমলাতন্ত্র, কার্যনির্বাহী পরিষদ নির্বাচন না করে ২৫ বছর ধরে বাংলা একাডেমি সচেতন মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্যতা হারিয়েছে।

জাকির তালুকদার আরও বলেন, ‘প্রতিষ্ঠানের গুরুত্ব কমে গেলে পুরস্কারের গুরুত্ব থাকে না। তাই এই পুরস্কার এখন আমার কাছে অর্থহীন বোঝা মনে হচ্ছে। বাংলা একাডেমি তার মান ধরে রাখতে পারেনি, এটা দুঃখজনক।

যেখানে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার পাচ্ছেন ১৬ জন সেখানে তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কারের টাকা ফেরত দিয়ে

জাকির তালুকদার জানান, তিনি সবকিছু ফেরত পাঠানোর পাশাপাশি চিঠিও দিয়েছেন। যেখানে পুরস্কার ফেরত দেওয়ার কারণ উল্লেখ করা হয়েছে।

জাকির তালুকদার তার ‘মুসলিমমঙ্গল’ বইয়ের জন্য বাংলা একাডেমি পুরস্কার পান। ১০ বছর পর তিনি এটি ফিরিয়ে দেন।

জাকির তালুকদারের পুরস্কার ফেরত প্রসঙ্গে বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক কবি মুহাম্মদ নুরুল হুদা বলেন, আমি এখনও (পুরস্কারের টাকা ও সম্মানী) পাইনি। এত দিন পর পুরস্কার ফেরত  নেওয়া   যাবে কিনা জানি না। ‘

কথাসাহিত্যিক জাকির তালুকদারের ২৪  টিরও বেশি সাহিত্যকর্ম রয়েছে।এর মধ্যে ‘পিতৃগণ’, ‘কুরসিনামা’, ‘কবি ও কামিনী’, ‘ছায়াবাস্তব’, ‘রাজার সেপাই’ প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য।বাংলা একাডেমি পুরস্কার পাওয়ার ১০ বছর পর জাকির তালুকদার তা ফিরিয়ে দিয়ে ‘ ভার-মুক্তির’ ঘোষণা দেন।

বাংলা একাডেমিকে ‘স্বেচ্ছাচারিতা’ ও ‘অগণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে প্রশাসনের’ অভিযোগ তুলে এই প্রতিষ্ঠানের সাহিত্য পুরস্কার ফিরিয়ে দিয়েছেন কথাসাহিত্যিক জাকির তালুকদার। পুরস্কার পাওয়ার ১০ বছর পর রোববার (২৮ জানুয়ারি) তিনি বাংলা একাডেমিকে লেখা চিঠি এবং তার ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে ফেরত চেকের অনুলিপি প্রকাশ করেন।

জাকির তালুকদার পোস্টে লিখেছেন, “আমি পাঠিয়ে দিলাম । খুব ভারমুক্ত লাগছে।” জাকির তালুকদার পুরস্কার ফেরত আবেদনপত্রের একটি ছবি এবং একটি চেক পৃষ্ঠা সংযুক্ত করেছেন।

২০১৪ সালে বাংলা একাডেমি তাকে এই পুরস্কারে ভূষিত করে। ১০ বছর পর তিনি তা ফিরিয়ে দেন। কেন ফেরত দিলেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘বাংলা একাডেমি চলছে অগণতান্ত্রিক পন্থায়। তাদের স্বেচ্ছাচারিতার কারণে বছরের পর বছর ধরে কার্যনির্বাহী কমিটির নির্বাচন হচ্ছে না। নিজস্ব লোক দিয়ে সব কমিটি। এমনকি অ্যাওয়ার্ড কমিটিতেও  নিজস্ব লোকও রয়েছে। ফলে পুরস্কারের মান আমার কাছে আর গুরুত্বপূর্ণ নয়।

তিনি আরও বলেন, ‘শুধু পুরস্কারের কারণে নয়, প্রতিষ্ঠান হিসেবে অগণতান্ত্রিক মানসিকতার কারণে আমি এটি ফেরত দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। চিঠিটা তাদের ঠিকানায় পোস্ট করলাম। তারা পাওয়ার পর বিস্তারিত জানাব।’ লেখালেখির পরিচয়ের বাইরে কর্মজীবনে তিনি একজন চিকিৎসক।

    Leave a Reply

    Your email address will not be published.

    X