বিএনপি ক্ষমতায় গেলে এক রাতেই আ.লীগকে শেষ করে দেবে: ভীত-সন্ত্রস্ত ক্ষোভে ওবায়দুল কাদের

বিএনপি ক্ষমতায় গেলে এক রাতেই আ.লীগকে শেষ করে দেবে: ভীত-সন্ত্রস্ত ক্ষোভে ওবায়দুল কাদের

বিএনপি ক্ষমতায় গেলে এক রাতেই আ.লীগকে শেষ করে দেবে: ভীত-সন্ত্রস্ত ক্ষোভে ওবায়দুল কাদের

বিএনপি ক্ষমতায় গেলে এক রাতেই আ.লীগকে শেষ করে দেবে: ভীত-সন্ত্রস্ত ক্ষোভে ওবায়দুল কাদের

জোর গলায় কথা বললেও আওয়ামী লীগের কথার  ভিতরে কেনো যেন  ভীত সন্ত্রস্ত ভাব ফুটে উঠছে । দিন যত যাচ্ছে কথাবার্তাও কেমন যেন অনেকটা রেসপন্সিবিলিটির বাইরে গিয়ে বলছে । আর রাজনীতির মাঠকে  বারবার টেনে খেলার মাঠে নিয়ে যাচ্ছে । এবং আওয়ামী লীগের বিভিন্ন নেতা কর্মীর মুখে তাদের ক্ষমতায় হেরে গেলে কি অবস্থার  সৃষ্টি হবে সেই চিন্তায় প্রয়োজনীয়  স্বাভাবিক কণ্ঠস্বরকেও শক্ত আবরণ দ্বারা ঢেকে ফেলছে।

তবে সারা পৃথিবীর ক্ষমতাসীন ব্যক্তিরাই যখন অনেক দিনের ক্ষমতা পেয়েছে এবং শাসনের অন্তরালে শোষণের কালো থাবা দিয়েছে  এবং তাদের ক্ষমতা ফুরিয়ে যাওয়ার সময় এসেছে তাদেরকেও এরকম অবস্থায় দেখা গিয়েছে এবং ইতিহাসের চিরন্তন ব্যাখ্যাও  তাই ।

বিএনপি ক্ষমতায় এলে রাতারাতি আওয়ামী লীগকে শেষ করে দেবে বলে অভিযোগ করেন ওবায়দুল কাদের। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী বলেছেন, শেখ হাসিনা নির্বাচনে হারলে বাংলাদেশ হেরে যাবে। দরিদ্র মানুষকে বাঁচাতে শেখ হাসিনাকে জিততে হবে।

শনিবার বিকেলে রাজধানীর মিরপুরে ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগ আয়োজিত খাদ্য বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, শেখ হাসিনার বিকল্প নেই। আগামী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তার চেয়ে যোগ্য প্রার্থী আছে কি না, তা সব দলের কাছে জানতে চেয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৮তম শাহাদত বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত খাদ্য বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বিশ্ব সংকটের মধ্যেও বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। . সব দলের কাছে প্রশ্ন, শেখ হাসিনার চেয়ে যোগ্য নেতা কে হতে পারেন পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী?

বিএনপির নেতৃত্ব সংকট প্রসঙ্গে ওবায়দুল কাদের বলেন, কাকে বিএনপি নেতা বানাবে? খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান দুজনেই সাজাপ্রাপ্ত। নির্বাচনে দলের নেতা কে হবেন? বাতাস নেতৃত্ব দিচ্ছে। তাদের নেতা কে?  জনগণ শেখ হাসিনার পদত্যাগ, তত্ত্বাবধায়ক, সংসদ ভেঙে দিতে চায় না। তারা (বিএনপি) কেন চায়?

ওবায়দুল কাদের বলেন, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ও ৩ নভেম্বর মোশতাক ও জিয়ার নেতৃত্বে জাতীয় চার নেতাকে হত্যা করা হয়। কিন্তু তারা এখন মানবাধিকারের কথা বলছে! মনে হয় – তারা খাঁটি ফেরেশতা, তাদের মতো ভাল মানুষ আর নেই।

গত ২৯ জুলাই ঢাকার প্রবেশপথে বিএনপির অবরোধ কর্মসূচি সম্পর্কে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাতে এসেছেন আমানউল্লাহ আমান। ফলের রস পান করার পর সব ভুলে যান। কিশোরগঞ্জে কোরাল মাছ খেয়ে খুশি গয়েশ্বর। সেও কিছু প্যাকেট বাসায় নিয়ে গেল। সেগুলোর  ওপেন  ছবিঅ আছে।

তিনি বলেন, বিএনপি মুখে মধু, হৃদয়ে বিষ। তিনি বলেন, তিনি ক্ষমতায় এলে আওয়ামী লীগের মানুষের কোনো ক্ষতি হবে না। কি সুন্দর জিনিস!বিএনপি ক্ষমতায় এলে রাতারাতি আওয়ামী লীগকে শেষ করে দেবে। এটা তাদের ভেতরের কথা। বিএনপির তিন দফা- সন্ত্রাস, দুর্নীতি ও খুন। এখন আবার অন্যদের দোষারোপ করছে। এটা তাদের নতুন কৌশল।

ওবায়দুল কাদের বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী হওয়ার মতো যোগ্য শেখ হাসিনার মতো কেউ নেই। দেশের মানুষ শেখ হাসিনার পদত্যাগ চায় না। তারা সংসদ ভেঙে দিতে চায় না বা তত্ত্বাবধায়ক সরকার চায় না।

ওবায়দুল কাদের বলেন, জনগণের কাছে জানতে চাই, শেখ হাসিনার বিকল্প প্রধানমন্ত্রী কে? তার মতো জননেতা কে আছে? আমি সব দলের কাছে জানতে চাই, শেখ হাসিনার চেয়ে যোগ্য নেতা কে হতে পারেন পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী? কাকে বিএনপি নেতা করবে?’

বিএনপির একদলীয় আন্দোলন ভুয়া বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ড. বিএনপির দুই নেতাই সাজাপ্রাপ্ত হয়েছেন। কে তাদের নেতৃত্ব দেবে কেউ জানে না।

কাদের বলেন, বিএনপি আমলে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা ঘরে থাকতে পারেনি। যারা বিএনপি আওয়ামী লীগকে নিশ্চিহ্ন করতে চায়, তারা বলছে ক্ষমতায় এলে আওয়ামী লীগের কিছুই হবে না।তত্ত্বাবধায়ক সরকার ইস্যুতে তিনি বলেন, আদালতের নির্দেশে তত্ত্বাবধায়ক সরকার কবরে ঘুমাচ্ছে, দেশের মানুষ কি সেটা চায়? তাহলে বিএনপি কেন প্রশ্ন করছে? ।

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় এলে মুক্তিযুদ্ধ ও গণতন্ত্রকে গিলে ফেলবে। বাংলাদেশকে পাকিস্তান ও আফগানিস্তান বানানো তাদের পরিকল্পনা।তিনি বলেন, শেখ হাসিনা নির্বাচনে হেরে গেলে; হেরে যাবে বাংলাদেশ, গরিব মানুষ, হেরে যাবে মুক্তিযুদ্ধ । দরিদ্র মানুষকে বাঁচাতে হলে শেখ হাসিনাকে আবারো জিততেই হবে।

আরও পড়ুন

সবার মধ্যে মন মরা মুখ গোমরা ভাব কেন: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

বেশীরভাগ মানুষই মনে করেন ভুল পথে যাচ্ছে বাংলাদেশ

ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ বজলুর রহমানের সভাপতিত্বে খাদ্য বিতরণ অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম, উত্তরের সাধারণ সম্পাদক এসএম মান্নান কচি, সংসদ সদস্য আগা খান মিন্টুসহ মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ।

বক্তারা বলেন, ৭৫-এর মতো ষড়যন্ত্র এখনো চলছে এবং এর মোকাবিলায় রাজপথে নামার ঘোষণা দেন। পরে দুস্থদের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

    3 Comments

    Leave a Reply

    Your email address will not be published.

    X