June 19, 2024

Warning: Undefined array key "tv_link" in /home/admin/web/timetvusa.com/public_html/wp-content/themes/time-tv/template-parts/header/mobile-topbar.php on line 53
গরীবকে নয় অবজ্ঞা

গরীবকে নয় অবজ্ঞা

গরীবকে নয় অবজ্ঞা

গরীবকে নয় অবজ্ঞা

সমাজের প্রতিটি সদস্যেরই  গুরুত্ব রয়েছে এবং প্রত্যেকের রয়েছে আলাদা আলাদা অবস্থান।  তাই সবাইকে যার যার অবস্থান অনুযায়ী গুরুত্ব দিতে হবে। মানুষকে তার কর্মের মূল্য উচিত, কাউকে অবজ্ঞা করা উচিত নয়। আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কোরআনের বিভিন্ন স্থানে দরিদ্র ও অসহায় মুসলমানদের অবহেলা না করার নির্দেশ দিয়েছেন তাই গরীবকে নয় অবজ্ঞা ।

আমরা আমাদের দৈনন্দিন জীবনে একে অপরের সাহায্য এবং ভালবাসায় বেঁচে থাকি। শক্তিশালী-দুর্বল এবং ধনী-গরিবের এই অপূর্ব সমন্বয়ে পৃথিবী আজও বিদ্যমান। জীবনের মানের এই ব্যবধানের মধ্যেই রয়েছে রহস্য । রয়েছে টিকে থাকার ফর্মুলা।

সূরা যুখরুফের ৪৩ নং আয়াতে আল্লাহতায়ালা স্বয়ং এ বিষয়ে অবহিত করেছেন, ‘আমিই দুনিয়াতে তাদের মধ্যে জীবনযাত্রার মানকে ভাগ করে দিয়েছি এবং কাউকে কাউকে অন্যের উপর মর্যাদা দিয়েছি।’ তবে তিনি আরও বললেন- এই দূরত্ব আমার কাছে তোমাদের শ্রেষ্ঠত্বের মাপকাঠি নয়, তোমাদের মধ্যে যে  সবচেয়ে বেশি খোদাভীরু সেই আল্লাহর কাছে সবচেয়ে সম্মানিত।

শুধু কারখানার শ্রমিকই নয়, আমরা নিজেদের ঘরের কাজ করার জন্য গৃহকর্মীও নিয়োগ করি। কাজের ছেলে বা মেয়ে- ঘর পরিষ্কার করা থেকে শুরু করে রান্নাবান্না ও পরিবেশন পর্যন্ত দিনের পর দিন কঠোর পরিশ্রম করে। মাস শেষে বেতন পাওয়ার আশায় তারা বাড়িওয়ালার বকাঝকা ও নির্যাতন সহ্য করে। অথবা সামান্য ভুলের জন্য অনেক জঘন্য গালিগালাজ, এমনকি কখনও কখনও শারীরিক নির্যাতনও।

চৌদ্দ বছর পরও আমাদের প্রিয় রাসুল (সা.)-এর উদারতা ও দূরদর্শিতা দেখে শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় মাথা নত করি। সুদূর মদীনার এই নবী শুধু নামাজ বা রোজা রাখেননি, ঘরের অসহায় এই সকল মানুষদের সঙ্গে কেমন আচরণ করতে হবে তাও বলেছেন। তিনি বললেন, এ কাজের লোকগুলো তো তোমাদেরই ভাই। আল্লাহপাক এদের তোমাদে অধীন করেছেন। তোমরা যে খাবার খাও, তাদেরও তেমন খাদ্য দিও। আর তোমাদের কাপড় চোপড়ের মতো ওদেরও পোশাক পরতে দিও। তাদের সাধ্যের বাইরে কোনো কাজ দিওনা। যদি দিয়ে ফেল, তবে তোমরাও তাদের সাহায্য করো।’’ (মুসলিম-৩১৩৯)

আল্লাহ বলেন, তুমি দৃঢ় চিত্ত হয়ে তাদের সাথে অবস্থান কর যারা সকাল-সন্ধ্যা তাদের প্রতিপালককে আহবান করে তাঁর সন্তুষ্টি লাভের সন্ধানে। পার্থিব জীবনের শোভা ও চাকচিক্য কামনায় তুমি তাদের থেকে তোমার দৃষ্টি ফিরিয়ে নিও না। তুমি তার আনুগত্য কর না যার অন্তরকে আমি আমার স্মরণ হতে উদাসীন করে দিয়েছি, যে নিজের প্রবৃত্তির আনুগত্য করে আর যার কার্যকলাপ হচ্ছে সীমালঙ্ঘনমূলক। সুরা : কাহফ, আয়াত : ২৮)

কাউকে তুচ্ছ করা উচিত নয়। জুবায়ের ইবনে নুফাইর আল-হাদরামি (রহ.) বলেন, তিনি আবু দারদা (রা.)-কে বলতে শুনেছেন, তিনি বলেন, ‘আমি রাসুল (সা.)-কে বলতে শুনেছি, তোমরা দুর্বল লোকদের খোঁজ করে আমার কাছে নিয়ে এসো। কেননা তোমরা তোমাদের মধ্যকার দুর্বল লোকদের অসিলায় ও সাহায্যপ্রাপ্ত হয়ে থাকো।’ (আবু দাউদ, হাদিস: ২৫৯৪) ।

অন্য হাদিসে ইরশাদ হয়েছে, মুসআব ইবনে সাদ (রা.) বলেন, সাদ (রা.)-এর ধারণা ছিল, অন্যদের চেয়ে তাঁর মর্যাদা বেশি। তখন নবী (সা.) বলেন, ‘তোমরা দুর্বলদের (দোয়ার) অসিলায় সাহায্যপ্রাপ্ত ও রিজিকপ্রাপ্ত হচ্ছ।’ (বুখারি, হাদিস: ২৮৯৬) ।

বহু অবহেলিত মানুষ আল্লাহর কাছে বিশেষ মর্যাদার অধিকারী। রাসুল (সা.) বলেন, মাথায় উষ্কখুষ্ক চুল ও দেহে ধূলিমলিন দুইখানা পুরনো কাপড় পরিহিত এরূপ অনেক ব্যক্তি আছে, যার প্রতি লোকেরা দৃষ্টিপাত করে না। অথচ সে আল্লাহর নামে শপথ করে ওয়াদা করলে তিনি তা সত্যে পরিণত করেন। (তিরমিজি, হাদিস: ৩৮৫৪)

রাসুল (সা.) সমাজের মানুষকে গুরুত্ব দিতেন।আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, একজন কালো নারী অথবা একটি যুবক  মসজিদে নববী ঝাড়ু দিত। একদিন রাসুল তাকে দেখতে পেলেন না। তিনি ওই নারী অথবা যুবকটির খোঁজ নিলেন। লোকেরা বলল, সে মৃত্যুবরণ করেছে। তিনি বলেন, তোমরা আমাকে জানালে না কেন? বর্ণনাকারী বলেন, লোকেরা এই নারী বা যুবকের বিষয়টিকে তুচ্ছ ভেবেছিল। তিনি বলেন, তাকে কোথায় কবর দেওয়া হয়েছে আমাকে দেখাও। তারা তাঁকে তার কবর দেখিয়ে দিল। তখন তিনি তার কবরে (কাছে গেলেন ও) জানাজার সালাত আদায় করেন। তারপর বলেন, এ কবরগুলো এর অধিবাসীদের জন্য ঘন অন্ধকারে ভরা ছিল। আর আমার সালাত আদায়ের ফলে আল্লাহ তাআলা এগুলোকে আলোকিত করে দিয়েছেন।’ (বুখারি, হাদিস: ৪৫৮)

অন্য হাদিসে, জাবের বিন আবদুল্লাহ (রাঃ) রাসুলুল্লাহ (সাঃ) এর সূত্রে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন, ‘আমি জান্নাতে প্রবেশ করলাম অথবা জান্নাতের কাছে এসে একটি প্রাসাদ দেখতে পেলাম। অতঃপর জিজ্ঞেস করলাম, এটি কার প্রাসাদ? তাঁরা (ফেরেশতারা) বললেন, এ প্রাসাদ ওমর ইবনুল খাত্তাব (রা.)-এর। আমি তার মধ্যে প্রবেশ করতে চাইলাম। কিন্তু শুধু তোমার আত্মমর্যাদাবোধ আমাকে সেখানে প্রবেশে বাধা দিল, যা আমার জানা ছিল। এ কথা শুনে ওমর (রা.) বলেন, হে আল্লাহর রাসুল, আমার মাতা-পিতা আপনার জন্য কোরবান হোক! আপনার কাছেও আমি আত্মমর্যাদাবোধ প্রকাশ করব?’ (বুখারি: ৫২২৬)। এভাবে রাসুল (সা.) অন্যকে গুরুত্ব দিতেন।

অন্য হাদিসে রাসূলুল্লাহ (সা.) আরও বলেছেন, ‘আমি জান্নাতের দুয়ারে দাঁড়িয়ে দেখতে পেলাম, যারা জান্নাতে প্রবেশ করেছে তাদের অধিকাংশই গরিব-মিসকিন; অথচ ধনবানরা আটকা পড়ে আছে। অন্যদিকে জাহান্নামিদের জাহান্নামে নিক্ষেপ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আমি জাহান্নামের প্রবেশ দ্বারে দাঁড়ালাম এবং দেখতে পেলাম যে, অধিকাংশই নারী।’ (সহিহ বুখারি: ৫১৯৬) ।

লোকেরা দরিদ্রদের অবহেলা করে এবং তুচ্ছ করে যখন বিশ্বাসীর স্বপ্নের জান্নাত তাদের নিয়ে গর্ব করে। “স্বর্গ ও নরক একে অপরের সাথে বিবাদ ও ঝগড়ায় লিপ্ত। নরক বলল, পরাক্রমশালী, অত্যাচারী এবং অহংকারীরা আমার মধ্যে প্রবেশ করবে। স্বর্গ বলেছে, দুর্বল এবং দরিদ্ররা আমার মধ্যে প্রবেশ করবে।

হাদিস আল্লাহর (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘দরিদ্র মুমিনরা ধনীদের চেয়ে অর্ধদিন আগে জান্নাতে প্রবেশ করবে। আর আখেরাতের অর্ধদিনের পরিমাণ হলো পৃথিবীর ৫০০ বছর।’ (সুনানে ইবনে মাজাহ: ৪১২২) ।

শুধু ব্যবসা ও চাকরির মাধ্যমেই পরিবারে সমৃদ্ধি আসে না; বরং অনেক সময় অসচ্ছল ও দুর্বলের কারণে পরিবারে সচ্ছলতা আসে। তাই গরিব-দুঃখীকে অবহেলা করা উচিত নয়।

হাদিসে আছে, ‘দুর্বল লোকদের দোয়ায় তোমরা সাহায্য ও রিজিকপ্রাপ্ত হও।’ (সহিহ বুখারি: ২৮৯৬) ।

আরও পড়ুন

শিশু বাচ্চার দুধের জন্য চাল চুরি, একজন ‘চোরের’সরল স্বীকারোক্তি: বাংলাদেশ

একইভাবে সম্পদ নিয়ে অহংকার করো না; কারণ সম্পদ ও দারিদ্র উভয়ই প্রভুর পক্ষ থেকে পরীক্ষা। ধনীদের জন্য আল্লাহর নির্দেশ মেনে চলার পরীক্ষা এবং গরীবদের জন্য ধৈর্যের পরীক্ষা। পবিত্র কোরানে ইরশাদ হয়েছে, ‘আর আপনি আপনার দু’চোখ কখনো প্রসারিত করবেন না সে সবের প্রতি, যা আমি বিভিন্ন শ্রেণীকে দুনিয়ার জীবনের সৌন্দর্যস্বরূপ উপভগের উপকরণ হিসেবে দিয়েছি, তা দ্বারা তাদেরকে পরীক্ষা করার জন্য। আর আপনার রব-এর দেয়া রিযিকই সর্বোৎকৃষ্ট ও অধিক স্থায়ী।(সূরা ত্বহা : ১৩১)।

আমরা গরীবদের সাথে উঠতে বসতে চাই না। তাদের সাথে বসাকে আমরা এক প্রকার অপমান মনে করি। কিন্তু আমাদের নবী মুহাম্মদ (সা.) গরীবদের ভালোবাসতেন। তাদের চলাফেরা করতেন। এমনকি তাদের সঙ্গে যেন নিজের হাশরটা হয় সে দোয়াও করতেন তিনি ।

হজরত আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘হে আল্লাহ! তুমি আমাকে দরিদ্র অবস্থায় বাঁচিয়ে রাখ, দরিদ্র থাকা অবস্থায় মৃত্যু দিয়ো এবং কিয়ামত দিবসে দরিদ্রদের দলভুক্ত করে হাশর কর।’ (তিরমিজি: ২৩৫২)

কারণ অধিকাংশ সম্পদহীন লোকই সম্পদহীন থাকবে জান্নাতে।

    Leave a Reply

    Your email address will not be published.

    X