May 25, 2024

Warning: Undefined array key "tv_link" in /home/admin/web/timetvusa.com/public_html/wp-content/themes/time-tv/template-parts/header/mobile-topbar.php on line 53
বিশ্বের স্বাদু বা মিঠা পানির প্রধান উৎসগুলো যাচ্ছে শুকিয়ে

বিশ্বের স্বাদু বা মিঠা পানির প্রধান উৎসগুলো যাচ্ছে শুকিয়ে

বিশ্বের স্বাদু বা মিঠা পানির প্রধান উৎসগুলো যাচ্ছে শুকিয়ে

বিশ্বের স্বাদু বা মিঠা পানির প্রধান উৎসগুলো যাচ্ছে শুকিয়ে

আল্লাহতালা পানি শুকিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে সূরা মুলক এর নং ৩০ আয়াতে বলেছেন,“বলুন, ‘তোমরা ভেবে দেখেছ কি, যদি তোমাদের পানি ভূগর্ভে চলে যায়, তাহলে কে তোমাদেরকে বহমান পানি এনে দিবে”?

তবে বিজ্ঞানীরা বিশ্বাস করেন যে জলবায়ু পরিবর্তনের সবচেয়ে বিপর্যয়কর পরিণতি এড়াতে, ২.৭ ডিগ্রি ফারেনহাইট অতিক্রম করা থেকে বৈশ্বিক উষ্ণতা রোধ করা প্রয়োজন। বর্তমানে প্রায় ১.৯ ডিগ্রী ফারেনহাইট হারে উষ্ণায়ন হচ্ছে।

আমরা জানি যে পৃথিবীতে পর্যাপ্ত  রয়েছে তবে বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন যে ব্যাপক কৃষি, অত্যধিক  পানি  ব্যবহার  পানি এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে আমাদের সবুজ গ্রহে পানি র ঘাটতি হতে পারে।

পৃথিবীর পৃষ্ঠের দুই-তৃতীয়াংশ সমুদ্রের পানি দ্বারা আবৃত, অন্তত এক বিলিয়ন ট্রিলিয়ন লিটার পানি। এমন একটি গ্রহে পানির ঘাটতি কীভাবে হয়?

পৃথিবীর বেশির ভাগ পানিই মিঠা পানি নয়, লবণাক্ত পানি । অর্থাৎ সব পানির মাত্র আড়াই শতাংশ মিঠা পানি; সেই স্বাদু পানির দুই-তৃতীয়াংশ আবার সুমেরু, কুমেরু এবং বিশ্বের বিভিন্ন হিমবাহে বরফে পরিণত হয়। অবশিষ্ট তরল বিশুদ্ধ পানি পান করা থেকে শুরু করে রান্না, ক্ষেতে সেচ দেওয়া থেকে শুরু করে গৃহপালিত পশুদের তৃষ্ণা মেটানো সবকিছুর জন্য ব্যবহার করা হয়।

পানি হল একটি পুনর্নবীকরণযোগ্য সম্পদ যা চক্রাকারে পরিবর্তিত হয় এবং আমাদের গ্রহে মোট পানির পরিমাণ মোটামুটিভাবে চিরকাল একই থাকবে – অর্থাৎ কখনই ফুরিয়ে যাবে না। এখন প্রশ্ন হল সব মানুষের জন্য পর্যাপ্ত বিশুদ্ধ পানি থাকবে কি না।

প্রাকৃতিক হ্রদ এবং জলাধারগুলি বিশ্বের স্বাদু জলের প্রায় ৮৭ শতাংশ সঞ্চয় করে। ৯০ এর দশকের গোড়ার দিক থেকে বিশ্বের অর্ধেকেরও বেশি বড় হ্রদ এবং জলাশয়গুলি আশঙ্কাজনক হারে শুকিয়ে যাচ্ছে। জলবায়ুর এই ধরনের পরিবর্তন কৃষি, জলবিদ্যুৎ এবং মানুষের ব্যবহারের জন্য পানি নিয়ে উদ্বেগকে তীব্র করেছে। নতুন এক গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে।

ইউরোপ ও এশিয়ার মধ্যবর্তী ক্যাস্পিয়ান সাগর থেকে দক্ষিণ আমেরিকার টিটিকাকা হ্রদ পর্যন্ত বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মিঠা পানির উৎস শুকিয়ে যাচ্ছে,  একটি আন্তর্জাতিক গবেষক দল জানিয়েছে। প্রায় তিন দশক ধরে প্রতি বছর ২২ গিগাটন হারে পানি শুকিয়ে গেছে।

সায়েন্স জার্নালে প্রকাশিত নতুন গবেষণায় দেখা গেছে, মধ্য এশিয়ার আরাল সাগর এবং মধ্যপ্রাচ্যে মৃত সাগরের মতো হ্রদগুলো শুকিয়ে গেছে। আফগানিস্তান, মিশর এবং মঙ্গোলিয়ার হ্রদগুলি ক্রমবর্ধমান তাপমাত্রার দ্বারা প্রভাবিত হয়েছে, যা বায়ুমণ্ডলে পানির  ক্ষতি বাড়াতে পারে। অভ্যন্তরীণ তিব্বত মালভূমির মতো প্রত্যন্ত অঞ্চলে, বাঁধ নির্মাণ প্রায়ই হ্রদের জলস্তর এক চতুর্থাংশ বৃদ্ধি করে।

বিশ্বের প্রায় ৮৭ শতাংশ মিষ্টি জল প্রাকৃতিক হ্রদ এবং জলাশয়ে সঞ্চিত। তবে, তারা পৃথিবীর পৃষ্ঠের মাত্র ৩ শতাংশ দখল করে আছে ।

ভার্জিনিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সারফেস হাইড্রোলজিস্ট ফাংফাং ইয়াও বলেছেন যে প্রাকৃতিক হ্রদের ৫৬ শতাংশ হ্রাস মূলত জলবায়ু উষ্ণায়ন এবং মানুষের অব্যাহত ব্যবহারের কারণে শুকিয়ে যাচ্ছে।

জলবায়ু বিজ্ঞানীরা বিশ্বাস করেন যে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বিশ্বের শুষ্ক অঞ্চলগুলি শুষ্ক হয়ে উঠবে এবং আর্দ্র অঞ্চলগুলি আর্দ্র হয়ে উঠবে। তবে গবেষণায় দেখা গেছে যে আর্দ্র অঞ্চলেও উল্লেখযোগ্য হারে পানি কমছে।

সারফেস হাইড্রোলজিস্ট ইয়াও মন্তব্য করেছেন যে এই পরিস্থিতি উপেক্ষা করা উচিত নয়।

বিশ্বের২০০০ টি বড় হ্রদের নতুন এক গবেষণায় বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, ক্রমাগত মানুষের ব্যবহার, বৃষ্টিপাতের প্রবাহের পরিবর্তন, অবক্ষয় এবং তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে হ্রদের পানির স্তর কমছে। ১৯৯২ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে ৫৩ শতাংশ পানি কমেছে।

স্পেন সম্প্রতি জানিয়েছে যে কয়েক মাস খরার পরে উত্তর-পূর্ব কাতালোনিয়ার জলাধারগুলি প্রায় ২৬  শতাংশ পূর্ণ ছিল। যেখানে খরার পর ২০২২ সালেও পানি ছিল ৫৮ শতাংশ।

কেন পানির অভাব:

জলবায়ু পরিবর্তন

নেদারল্যান্ডসের ইউনিভার্সিটি অফ টুয়েন্টির একটি সমীক্ষা অনুসারে, মোট ৪ বিলিয়ন মানুষ ভবিষ্যতে বছরে অন্তত এক মাস ভয়াবহ বন্যার সম্মুখীন হতে পারে। বিশ্বের কিছু অঞ্চল ইতিমধ্যেই খরা এবং ব্যাপক বন্যার সম্মুখীন হচ্ছে, যেমন হর্ন অফ আফ্রিকা, যেখানে কয়েক বছর খরার পরে লক্ষ লক্ষ মানুষ ক্ষুধা ও রোগে ভুগছে। অন্যদিকে, ২০২৫ সালের মধ্যে পাকিস্তানে পানি শেষ হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে

জলবায়ু পরিবর্তন পরিস্থিতিকে আরও বাড়িয়ে তুলবে । জলবায়ু পরিবর্তন বিশ্বজুড়ে আবহাওয়ার ধরণ পরিবর্তন করছে, কিছু অঞ্চলে খরা এবং অন্যান্য অঞ্চলে ভারী বর্ষণ ও বন্যা সৃষ্টি করছে। উচ্চ তাপমাত্রা জলাধারের জলাবদ্ধতারও কারণ হতে পারে জল সম্পদের অব্যবস্থাপনাও বন্যার কারণ হতে পারে অতিরিক্ত উত্তোলন ভূগর্ভস্থ জলের স্তরকে হ্রাস করেছে; অন্যদিকে নদী ও হ্রদ ইত্যাদি হয় শুকিয়ে যাচ্ছে অথবা দূষণের কারণে তাদের পানি ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে।

কৃষি

যেসব খাতে সবচেয়ে বেশি পানি ব্যবহার করা হয় তার মধ্যে কৃষিই প্রথম আসে বিশ্বের প্রায় ৭০ শতাংশ স্বাদু পানি সেচ ও গৃহপালিত পশুদের পানি দেওয়ার জন্য ব্যবহৃত হয় যেখানে আধুনিক কৃষি একদিকে যেমন পানির ব্যবহার কমিয়ে আনা সম্ভব করেছে, অন্যদিকে কৃষির তীব্রতা এবং ফলন বৃদ্ধি, কিছু এলাকায় জলের চাহিদা স্থানীয় পানি সরবরাহকে ছাড়িয়ে গেছে – উদাহরণস্বরূপ, সমগ্র ইউরোপের টমেটো উৎপাদনের এক চতুর্থাংশ স্পেনের টমেটো চাষ এলাকা থেকে আসে; তাই এখানে  পানি বেশি লাগাটাই  স্বাভাবিক।

অপচয়ী ব্যাবহার

পানি ব্যবস্থাপনা যতই আধুনিক ও দক্ষ হোক না কেন, তা পানির ক্রমবর্ধমান চাহিদার সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে পারে না। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরিসংখ্যান অনুসারে, প্রতিটি ব্যক্তির গোসল  বা কাপড় ধোয়া ছাড়াই শুধু  প্রতিদিন ২০ লিটার বিশুদ্ধ পানি  রান্না এবং ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতার জন্য প্রয়োজন – । শিল্পোন্নত দেশগুলিতে পানির ব্যবহার অনেক বেশি: জার্মানিতে, একজন নাগরিক প্রতিদিন গড়ে ১৪০ লিটার জল ব্যবহার করে, যার ৩০ লিটার টয়লেট ফ্লাশ করতে যায়।

আমাদের ‘ওয়াটার ফুটপ্রিন্ট’ এমনকি আমাদের কার্বন ফুটপ্রিন্টকে ছাড়িয়ে যেতে পারে: এক কেতলি কফি তৈরি করতে সব মিলিয়ে পানি খরচ হয় ৮৪০ লিটার, একজোড়া জিন্স তৈরি করতে লাগে ৮,০০০ লিটার পানি৷

আরও পড়ুন

হজে জমজমের পানি অপচয় না করার অনুরোধ সৌদি আরবের

জলবায়ু পরিবর্তনের একটি মাপকাঠি হল গড় তাপমাত্রা বৃদ্ধি। ফলে বদলে গেছে বৃষ্টিপাতের ধরন। যেখানে আগে বৃষ্টি হতো, এখন হয় না। ফলে স্বাভাবিক হ্রদের পলির পরিবর্তন হয়েছে। এটি হ্রদ এবং জলাশয় শুকিয়ে যাওয়ারও একটি কারণ। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুষ্ক হ্রদ অববাহিকায় বসবাসকারী প্রায় ২০০ মিলিয়ন মানুষ সরাসরি এই পরিস্থিতির দ্বারা প্রভাবিত হয়।

    Leave a Reply

    Your email address will not be published.

    X