বাড়তি মেদ (ভুঁড়ি) কমাতে করণীয়

বাড়তি মেদ (ভুঁড়ি) কমাতে করণীয়

বাড়তি মেদ (ভুঁড়ি) কমাতে করণীয়

বাড়তি মেদ (ভুঁড়ি) কমাতে করণীয়

অতিরিক্ত খাওয়া শরীর ও ভুঁড়িকে মোটা করে। তা ছাড়া আপনার পেটে চর্বি জমেছে। আর শরীরের বাড়তি মেদ কমাতে কেউ ডায়েট করে আবার কেউ ব্যায়াম করে। তবে এগুলো থেকে দেখা যায়, শরীরের অন্যান্য অংশের মেদ কমলেও পেটের মেদ সহজে কমে না। তাই পেটের মেদ কমাতে সকালে এই কাজগুলো করুন। চলুন জেনে নিই বিস্তারিত-

সকালে খালি পেটে পানি পান করুন:

পেটের মেদ কমাতে চাইলে সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর খালি পেটে পানি পান করুন। এটি শরীর থেকে টক্সিন দূর করবে। মেটাবলিক রেটও বাড়বে। এ ছাড়া খালি পেটে পানি পান করলে ক্ষুধার প্রবণতাও কমে যায়।

ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার খান:

সকালের নাস্তায় ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার যোগ করতে পারলে দ্রুত ওজন কমানো যায়। আপনার ডায়েটে পুরো শস্য, ফল, শাকসবজি এবং লেবু অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা করুন। ফাইবার ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।

অন্যমনস্ক হয়ে খাবার  খাওয়া এড়িয়ে চলুন:

খাওয়ার সময় অন্যান্য কাজে ব্যস্ত থাকলে সাধারণত কতটা খাচ্ছেন সেদিকে মনোযোগ দেওয়া সম্ভব হয় না। টিভি বা ফোনে খেলাধুলা, নাটক বা অন্যান্য জিনিস দেখার সময় খাওয়ার অভ্যাস থাকলে পেটে চর্বি হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। কারণ তখন আপনি সহজেই আপনার প্রয়োজনের চেয়ে বেশি খেতে পারবেন।

সৌজন্যের চাপে অতিরিক্ত খাবেন না:

আমরা যখন রাতের খাবার খেতে যাই, আমরা প্রায়শই সৌজন্যের জন্য বেশি খাই। এক্ষেত্রে কেউ প্লেটে খাবার রাখলে তা শেষ করা কর্তব্য বলে গণ্য হয় না। আবার বাইরে বন্ধু বা পরিচিতদের সঙ্গে দেখা হলে পেট ভরার পরও খাবারের অর্ডার দেওয়া হয়। এই অভ্যাস ওজন বৃদ্ধি এবং চর্বি  বাড়তে সাহায্য করে।

সব বেলাতেই খাওয়ার চেষ্টা করুন:

অনেকে প্রাতঃরাশ বাদ দিয়ে দুপুরের খাবার একবারে খাওয়ার পরিকল্পনা করেন। একটি খাবার বাদ দিলে পরের খাবার অতিরিক্ত খাওয়া বা অস্বাস্থ্যকর হতে পারে। এতে পেটের চর্বি বাড়তে পারে।

দ্রুত খাওয়ার অভ্যাস এড়িয়ে চলুন:

আপনি খাওয়া শুরু করার পরে, যখন খাবার পেটে প্রবেশ করে, তখন পাকস্থলী থেকে সংকেত মস্তিষ্কে পৌঁছায় – সহজ ভাষায়, মস্তিষ্ক পেটের সাথে কথা বলে। পেট ভরা কি না তা জানতে মস্তিষ্কের জন্য ২০ মিনিট পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। দ্রুত খাওয়ার ফলে অতিরিক্ত খাওয়ার সম্ভাবনা বেশি, কারণ পেট থেকে পূর্ণতার বার্তা ততক্ষণে  মস্তিষ্কে পৌঁছাতেই পারে না।

স্বাস্থ্যকর সকালের নাশতা খান:

রক্তে শর্করার মাত্রা স্থিতিশীল রাখতে এবং বিপাক ক্রিয়া বাড়াতে প্রোটিন-সমৃদ্ধ ব্রেকফাস্ট খাওয়া গুরুত্বপূর্ণ। উদাহরণস্বরূপ: ডিম, গ্রীক দই বা প্রোটিন স্মুদির মতো কিছু দিয়ে আপনার দিন শুরু করুন। যেহেতু প্রোটিন হজম করতে আরও শক্তি নেয়, এটি আপনাকে আরও ক্যালোরি পোড়াতে বাধ্য করে।

সাদা চাল ও আটার পরিবর্তন ঘটান:

সাদা চাল তৈরির সময় সাদা আটা, আঁশ বা অন্যান্য প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান ফেলে দেওয়া হয়। তাই সাদা চাল ও আটা বাদ দিয়ে লাল চাল ও লাল আটা অর্থাৎ যে চাল এবং যে আটা থেকে ফাইবার উঠানো হয় না সেটি খাওয়ার চেষ্টা করুন ।

পরিমিত পরিমাণে লবণ এবং চিনি:

বেশি লবণ খেলে শরীরে পানির ধারণক্ষমতা বাড়ে। এ জন্য পরিমিত পরিমাণে লবণ খেতে হবে। কাঁচা লবণ একেবারেই খাওয়া উচিত নয়। আর এই ধরনের লবণ কিনুন যাতে কম সোডিয়াম থাকে। এছাড়া চিনিও এড়িয়ে চলতে হবে। মিষ্টি খেতে চাইলে বিকল্প হিসেবে থাকতে পারেন গুড়, মধু।

ট্রান্স ফ্যাটযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলুন:

সয়াবিন তেলের মতো অসম্পৃক্ত চর্বিগুলিতে হাইড্রোজেন পাম্প করে ট্রান্স ফ্যাট তৈরি করে । তাই এ ধরনের খাবার এড়িয়ে চলুন।

সোজা হয়ে বসুন:

আমরা বেশিরভাগ সময় সোজা হয়ে বসে থাকি না। এমনভাবে বসি যাতে পেটের পেশী ঝুলে থাকে। তাই মেরুদণ্ড সোজা রাখে বসুন ।

পেট শক্ত রেখে পেটের ব্যায়াম করুন:

অনেকেই প্রতিদিন মন দিয়ে ব্যায়াম করেন। কিন্তু পেটের মেদ একেবারেই ঝরে না।

কারণ যে কোনো ব্যায়ামের সময় পেটের পেশীগুলোকে শক্ত করে ভিতরের দিকে টানতে হবে। তা না হলে পেটে চাপ পড়বে না।

যোগব্যায়াম:

যোগব্যায়ামও পেটের মেদ কমাতে পারে। ধনুরাসন, ভুজঙ্গাসন, উস্ট্রাসনের মতো বেশ কয়েকটি আসন আপনাকে পেটের মেদ কমাতে সাহায্য করবে।

সকালে ব্যায়াম করুন:

সকালের ব্যায়াম পেটের চর্বি কমানোর একটি কার্যকর উপায়। যেমন: দ্রুত হাঁটা, যোগব্যায়াম, দৌড়ানো ইত্যাদি। দিনের প্রথম দিকে ব্যায়াম করলে বিপাক প্রক্রিয়ার উন্নতি হয়। এটি চর্বি অক্সিডেশন উন্নীত করতে সাহায্য করে। প্রতিদিন সকালে কমপক্ষে ৩০ মিনিট ব্যায়াম করার চেষ্টা করুন।

মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ করুন:

দীর্ঘস্থায়ী চাপ ওজন ও ভুঁড়ি বৃদ্ধিতে অবদান রাখে, বিশেষ করে পেটের এলাকায়। তাই প্রতিদিন সকালে ধ্যান করার চেষ্টা করুন। এটি আপনাকে আপনার মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করবে। সকালে মাত্র কয়েক মিনিটের ধ্যান আপনার শরীরের পেটের চর্বি পোড়ানোর ক্ষমতার উপর গভীর প্রভাব ফেলতে পারে।

পর্যাপ্ত ঘুম:

ওজন নিয়ন্ত্রণ এবং সামগ্রিক স্বাস্থ্যের জন্য পর্যাপ্ত ঘুম অপরিহার্য। ঘুমের অভাব হরমোন নিয়ন্ত্রণ ব্যাহত করে, ক্ষুধা বাড়ায় এবং চর্বি সঞ্চয়ের সাহায্য করে , বিশেষ করে ভুঁড়িকে কমায় । আপনার শরীরের চর্বি পোড়ানোর প্রক্রিয়াগুলিকে সমর্থন করতে এবং পেটের চর্বি কমাতে সাহায্য করতে প্রতি রাতে ৬-৭ ঘন্টা মানসম্পন্ন ঘুমের লক্ষ্য রাখুন।

প্রায় ৭০০০০ মহিলার উপর দীর্ঘ একটি গবেষণায় দেখা গেছে যে যারা দিনে ৫ ঘন্টার কম ঘুমায় তাদের ওজন বৃদ্ধির সম্ভাবনা বেশি ।

আরও পড়ুন

মোটা হয়ে যাবে বিশ্বের প্রায় অর্ধেক মানুষ

রাতে লাইট জ্বালিয়ে ঘুমাবেন ?

শিশুকে মায়ের বুকের দুধ পান করানোঃ ইসলামিক দৃষ্টিভঙ্গি

    Leave a Reply

    Your email address will not be published.

    X