June 20, 2024

Warning: Undefined array key "tv_link" in /home/admin/web/timetvusa.com/public_html/wp-content/themes/time-tv/template-parts/header/mobile-topbar.php on line 53
অধীনস্থদের (কর্মচারী-কর্মকর্তাদের) প্রতি মালিকদের আচরণ: ইসলামী নমুনা

অধীনস্থদের (কর্মচারী-কর্মকর্তাদের) প্রতি মালিকদের আচরণ: ইসলামী নমুনা

অধীনস্থদের (কর্মচারী-কর্মকর্তাদের) প্রতি মালিকদের আচরণ: ইসলামী নমুনা

অধীনস্থদের (কর্মচারী-কর্মকর্তাদের) প্রতি মালিকদের আচরণ: ইসলামী নমুনা

পুঁজিবাদী অর্থনৈতিক ব্যবস্থায়, শ্রমিককে একটি অর্থনৈতিক জীব হিসাবে বিবেচনা করা হয় এবং তার কাছ থেকে অতিরিক্ত উৎপাদনের মাধ্যমে কীভাবে লাভের অঙ্কটি স্ফীত করা যায় তার উপর মালিকের নজর থাকে। আমাদের শ্রম আইনে প্রভু-কর্মচারীর সম্পর্ক প্রভু-চাকরের সমতুল্য। ফলে শ্রমিক ও মালিকের মধ্যে সহযোগিতা, সহানুভূতি প্রভৃতি ভালো গুণাবলীর পরিবর্তে তাদের মধ্যে শত্রুতা সৃষ্টি হয়। তবে ইসলাম ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে মালিক ও শ্রমিকের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলার জন্য উভয়ের দায়িত্ব ও কর্তব্য নির্ধারণ করেছে। ইসলামে মালিক-কর্মচারীর সম্পর্ক ভ্রাতৃত্বের উপর প্রতিষ্ঠিত।

শ্রমিকদের সাথে ভালো আচরণ করা, তাদের   যথাপযুক্ত বেতন ও মৌলিক চাহিদা প্রদান ইত্যাদি বিষয়ে নবী (সাঃ) এর বাণীতে বিপ্লবী ও মানবিক শ্রমনীতি পাওয়া যায়। নিয়োগকর্তাদের মনে রাখতে হবে যে তারা অর্থের বিনিময়ে শ্রমিকদের শ্রম গ্রহণ করেছে। কিন্তু সে মজুর কেনে নেয়নি যে, সে মজুরের কাছ থেকে ইচ্ছামত শ্রম নেবে

অর্থাৎ মালিক যেন অবশ্যই কর্মচারী কর্মকর্তাদের বেতনের দিকে লক্ষ্য রাখে  । এবং নিজের খরচের সাথে মিলিয়ে চিন্তা করে যে, আমার দেওয়া বেতন দ্বারা কর্মচারী কর্মকর্তারা মাসিক  ব্যয় নির্বাহে সামাল দিতে পারবে কিনা ।  আর এটাই ইসলামের সীমা ।

রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, “সামর্থ্যের   বাইরে  শ্রমিকদের উপর অতিরিক্ত কাজ চাপিয়ে দিও না। আপনি যদি তাকে তার সামর্থ্যের বাইরে কোন কাজ দেন তাহলে তাকে সেই কাজে সাহায্য করুন। ( বুখারী ও মুসলিম)।

মালিক ও ব্যবস্থাপনা কর্মচারীদের কর্তব্য হল শ্রমিকদের সাথে সৌহার্দ্যপূর্ণ জীবনযাপন করা, কথা বলা, উঠা-নামা করার ক্ষেত্রে ইসলামী ভ্রাতৃত্বপূর্ণ আচরণ ও আচার-আচরণ অবলম্বন করা, মৃত্যু, অসুস্থতা, শোক ও দুঃখের সময়  অন্যান্য দুর্ঘটনায়  উপস্থিত থাকা।  এবং সহানুভূতি এবং উদারতা দেখানো।

আর কোনরূপ বিপদে পতিত হয়ে যদি চাকরির স্থলে অনুপস্থিত থাকে বা কর্ম থেকে কিছু সময়, কিছুদিন অনুপস্থিত থাকে তাহলেও তার প্রতি সদে আচরণ করা মালিকের একান্ত দায়িত্ব ।  এবং তার বেতন থেকে কোনরূপ কর্তন করা  আল্লাহর ভয় কারী মালিকের পক্ষে কোনভাবেই সম্ভব নয়

ইসলামী জীবন ব্যবস্থায় মর্যাদা তাকওয়া দ্বারা নির্ধারিত হয়। অন্য কথায়, একজন ব্যক্তির মর্যাদা নির্ধারিত হয় যে কোন কাজের ব্যাপারে সে কতটা আল্লাহকে ভয় করে। আর এ কারণে ধার্মিক মুসলিম উর্ধ্বতন বা মালিকরা তাদের অধীনস্থদের সাথে অন্যায় বা অন্যায় আচরণ করতে পারে না।

দাসপ্রথা আজ আর নেই। কিন্তু তারপরও মানুষ অন্যের অধীনে জীবিকা নির্বাহের মাধ্যম হিসেবে কাজে নিয়োজিত। আর এই সব অধীনস্তদের অনেক মালিক বা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা নানা কারণে নিপীড়ন করছেন। ইসলাম কোনোভাবেই অধীনস্থদের নিপীড়ন সমর্থন করে না।

প্রিয়নবী তার অধীনস্থদের সাথে কেমন আচরণ করতেন? প্রিয়নবী কিভাবে আচরণ করবেন তা মুসলিম উম্মাহর জন্য আদর্শ। হাদিসে উল্লেখ আছে-

হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘তারা (অধীনস্থরা) তোমাদের ভাই। আল্লাহ তাদেরকে আপনার অধীনস্থ করেছেন। অতএব, আল্লাহ যাকে তার (কর্তা/কর্মকর্তা) অধীনস্থ করেছেন, তার উচিত তাকে (অধীনস্থ) যা সে নিজে খায় তাই তাকে খাওয়ানো এবং সে নিজে যা পরিধান করে তাই তাকে (অধীনস্থ) পরিধান করানো। আর তাকে (অধীনের) এমন কাজের বোঝা দিও না, যা তার সাধ্যের বাইরে। যদি তার উপর আরও কাজ চাপানো হয়, (দায়িত্বশীল ব্যক্তি) তাকে সাহায্য করুন।’ (বুখারী ও মুসলিম)

আরও জানতে

ইসলাম শ্রমিক/শ্রমজীবীদের দিয়েছে অনন্য মর্যাদাঃ মহান মে দিবস প্রসঙ্গ

সহকর্মীদের সাথে ব্যবহারে ইসলাম

সৌন্দর্য ঐতিহ্য আয়া সোফিয়ার ইতিহাস

হযরত আনাস রদ্বিয়াল্লাহু আনহু নবীর দীর্ঘ দিনের খাদেম ছিলেন। হযরত আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহুর সাথে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর আচরণ বর্ণনা করতে গিয়ে তিনি বলেনঃ

আমি ১০ বছর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর খেদমত করেছি। তিনি আমার সম্পর্কে ‘উহ’ শব্দটি কখনও বলেননি এবং কখনও বলেননি কেন আপনি এটি করেননি? কেন তুমি তা করনি? বরং আমার অনেক কাজ তিনি নিজেই করতেন।’ (মিশকাত)

অধস্তন ব্যক্তির প্রতি একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বা মালিকের আচরণ কেমন হওয়া উচিত তা হলো ইসলামী সাম্রাজ্যের খলিফা আমীরুল মু’মিনীন হযরত উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুর, যিনি জেরুজালেম সফরের সময় ভৃত্যের সাথে আচরণ করেছিলেন।

“ভৃত্য চড়িল উটের পিঠে উমর ধরিল রশি,
মানুষে স্বর্গে তুলিয়া ধরিয়া ধুলায় নামিল শশী”

উমর ফারুক (কবিতা) – কাজী নজরুল ইসলাম

তাই মালিক বা দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা যেন কোনো অধস্তন ব্যক্তির প্রতি অবিচার বা নিপীড়ন না করেন। বাড়ির দারোয়ান, কাজের ছেলে থেকে শুরু করে সমাজের সর্বোচ্চ স্তরের প্রতিটি দায়িত্বশীল ব্যক্তির উচিত অধীনস্থদের সঙ্গে ভালো ব্যবহার ও সদয় আচরণ করা। আর এতেই তাকওয়া অর্জন হবে।

1 Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.