May 25, 2024

Warning: Undefined array key "tv_link" in /home/admin/web/timetvusa.com/public_html/wp-content/themes/time-tv/template-parts/header/mobile-topbar.php on line 53
দৈনন্দিন কাজ কিভাবে ইবাদত হয়ে যায়

দৈনন্দিন কাজ কিভাবে ইবাদত হয়ে যায়

দৈনন্দিন কাজ কিভাবে ইবাদত হয়ে যায়

দৈনন্দিন কাজ কিভাবে ইবাদত হয়ে যায়

জীবনের প্রয়োজনে মানুষকে বিভিন্ন পেশা অবলম্বন করতে হয়। দিনরাত পরিশ্রম করতে হবে। মানুষ নিজেকে এবং তার পরিবারের ভরণপোষণের জন্য এই বাধ্যতামূলক শ্রমে নিয়োজিত হয়। মানুষের দৈনন্দিন কাজগুলো যদি আল্লাহর বিধান ও রাসূলের নির্দেশনা অনুযায়ী হয়, তাহলে এগুলোও ইবাদতের অন্তর্ভুক্ত হতে পারে।

মানুষের দৈনন্দিন কাজ-কর্ম  কিভাবে  এবাদত হয়ে যায় নিম্নে আলোচনা করছি:

ইসলামের দৃষ্টিতে কাজ হালাল হতে হবে: জীবিকার জন্য করা কাজ ইবাদতে পরিণত হওয়ার জন্য ইসলামের দৃষ্টিতে কাজ বা পেশা অবশ্যই হালাল হতে হবে। কেননা যে কাজ বা পেশা ইসলামের দৃষ্টিতে বৈধ নয়, তা  ইবাদত হতে পারেনা। বরং ইবাদত কবুল হওয়ার জন্য জীবিকা হালাল হতে হবে। হাদিস শরিফে উল্লেখ আছে, আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, হে লোক সকল, আল্লাহ তায়ালা পবিত্র।

তিনি পবিত্র জিনিস ছাড়া কিছুই গ্রহণ করেন না। আল্লাহ মুমিনদেরকে সেই বিষয়ে নির্দেশ দিয়েছেন যা তিনি তাঁর রসূলদেরকে নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বললেন, হে রসূলগণ, পবিত্র বস্তু আহার কর এবং নেক আমল কর। তুমি যা কর তা আমি ভালো করেই জানি।’ (সূরা আল-মুমিনুন, আয়াত ৫১ )।

তিনি আরও বললেন, হে ঈমানদারগণ, আমি তোমাদেরকে যা দিয়েছি তা থেকে পবিত্র বস্তু খাও। (সূরা: বাকারা, আয়াত: ১৭২ )। বর্ণনাকারী বলেন, রাসুলুল্লাহ (সাঃ) এমন এক ব্যক্তির কথা উল্লেখ করেছেন যার মাথার চুল এলোমেলো, এবং দীর্ঘ সফরের ক্লান্তির কারণে সারা শরীর ধুলোয় ঢাকা ছিল। সে আকাশের দিকে হাত তুলে বলে, হে আমার রব, হে আমার রব, অথচ তার খাদ্য ও পানীয় হারাম, তার পোশাক হারাম এবং তার জীবিকাও হারাম।

এমতাবস্থায় তার দোয়া কিভাবে কবুল হবে? (তিরমিযী)

নিয়ত শুদ্ধ হওয়া উচিত: শুদ্ধ নিয়ত মানুষের প্রচেষ্টাকে ফলপ্রসূ করে। বিশুদ্ধ নিয়ত ছাড়া হাজার রাকাত নফল নামাজও অর্থহীন হয়ে যায়। আবার শুদ্ধ নিয়তের মাধ্যমে অনেক জাগতিক কাজ ইবাদতে পরিণত হতে পারে। এ জন্য নবী (সা.) তাঁর উম্মতকে তাদের নিয়ত শুদ্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন। আলকামাহ ইবন ওয়াক্কাস আল-লায়সী (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ আমি উমর ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) কে মিম্বরে দাঁড়িয়ে বলতে শুনেছি, আমি রাসূলুল্লাহ (সাঃ) কে বলতে শুনেছি, কাজটি (এর যোগ্য হবে)। নিয়তি অনুযায়ী এবং মানুষ তার নিয়ত অনুযায়ী পুরস্কৃত হবে। … (বুখারি, হাদিস :১)

শুদ্ধ নিয়তের কারণে নারীদের গৃহস্থালির কাজও ইবাদতে পরিণত হতে পারে। পরিবারের জন্য ব্যয়ও বিশাল পুরস্কার নিয়ে আসে। একবার উম্মে সালামা (রাঃ) রাসুলুল্লাহ (সাঃ) কে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল, আমি (আমার প্রথম স্বামী) আবূ সালামার সন্তানদের জন্য ব্যয় করি, আমি কি এর প্রতিদান পাব? আমি তাদের এভাবে ছেড়ে যেতে পারি না, তারা আমার সন্তান। রাসুল (সাঃ) বললেন, হ্যাঁ, তুমি তাদের জন্য যা কিছু ব্যয়  করবে, তার বিনিময়ে তোমাকে পুরস্কৃত করা হবে। (মুসলিম)

যদি জীবিকা অর্জনের উদ্দেশ্য এই হয় যে, মহান আল্লাহ হালাল রিযিক অন্বেষণ করতে বলেছেন, হালাল রিযিক খেতে বলেছেন, আত্মীয়-স্বজন, এতিম ও অভাবগ্রস্তদের জন্য ব্যয় করতে বলেছেন, আল্লাহর আদেশ পালনের জন্য হালাল জীবিকা অর্জনের চেষ্টা করতে বলেছেন, অতঃপর জীবিকার জন্য যে আমল করা হয় তাও বিশুদ্ধ নিয়তের কারণে। তাহলে তা অবশই   ইবাদত হয়ে যাবে।

আল্লাহ কর্তৃক নির্ধারিত সীমা অবশ্যই অনুসরণ করতে হবে: আল্লাহতায়ালা প্রতিটি কাজের, হালাল ও হারামের জন্য নির্দিষ্ট সীমা নির্ধারণ করেছেন। কাজের ক্ষেত্রে আল্লাহ কর্তৃক নির্ধারিত সীমা লঙ্ঘন করা যাবে না। আল্লাহ যতটুকু অনুমতি দিয়েছেন শুধু ততটুকুই করা যায়। এর বেশি নয়। পবিত্র কোরআনে উল্লেখ আছে,নিশ্চয়ই আল্লাহ সীমালংঘনকারীদের পছন্দ করেন না। (সূরা বাকারা, আয়াতাংশ  ১৯০ )

পার্থিব কাজের ব্যস্ততায়  ইসলামী  দায়িত্বে অবহেলা করা উচিত নয়: পার্থিব দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের পাশাপাশি আল্লাহর সন্তুষ্টি ও ইসলামী  সেবার আশায় বৈধভাবে জীবিকা নির্বাহ করলে তা ইবাদতে পরিণত হবেই। যে ব্যক্তি তা করবে, মহান আল্লাহ তাদের জন্য মহা পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। পবিত্র কোরআনে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘যেসব লোকের বেচা-কেনা ও ক্রয়-বিক্রয় আল্লাহকে স্মরণ করা এবং সালাত কায়েম করা ও যাকাত আদায় করা থেকে বিরত রাখে না, তারা সেই দিনকে ভয় করে যেদিন তাদের অন্তর ও চোখ বিক্ষিপ্ত হবে, আল্লাহ তায়ালা দান করবেন তাদের কর্মের জন্য তাদের সেরা পুরস্কার। অর্থাৎ শুধু কর্মের পুরস্কার নয়; বরং আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে তাদেরকে অতিরিক্ত নেয়ামতও  দান করবেন।

একইভাবে পরিবারের ভরণ-পোষণের জন্য যা কিছু ব্যয় করা হয়, তার মাধ্যমে কল্যাণ সাধন করা যায়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যখন কোনো মুসলমান সওয়াবের আশায় তার পরিবারের জন্য ব্যয় করে, তখন তার জন্য দান-সদকার সমান সওয়াব নির্ধারিত হয়।’ (মুসলিম)

চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী, চালক, জেলে, নাপিত, কামার, কুমার, রাজমিস্ত্রি, কৃষক, শ্রমিক, দিনমজুরদের জীবিকা নির্বাহের জন্য কঠোর পরিশ্রম করতে হয়। তাদের কাজ নিছক কর্তব্য নয়, যার জন্য আল্লাহর কাছে রয়েছে সীমাহীন পুরস্কার।

আবু হুরায়রা (রাঃ) বলেন, একদিন আমরা রাসুলুল্লাহ (সাঃ) এর সাথে বসা ছিলাম। হঠাৎ আমাদের সামনে থেকে একজন যুবক এল। আমরা তাকে দেখে বললাম, এই যুবক যদি তার যৌবন, উদ্যম ও শক্তি দিয়ে আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করত! (তা হলে কত ভালো হতো)। বর্ণনাকারী বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদের কথোপকথন শুনে বললেন, নিহত হওয়া ছাড়া আল্লাহর পথে যুদ্ধ করার কি কোন উপায় নেই? যে ব্যক্তি তার পিতামাতার জন্য কাজ করে সে আল্লাহর রাস্তায় কাজ করে। যে ব্যক্তি তার পরিবারের জন্য শ্রম দেয় সে আল্লাহর রাস্তায় শ্রম দেয়। আর যে নিজেকে পবিত্র রাখার চেষ্টা করে, সে আল্লাহর পথে জিহাদ করে। কিন্তু যে ব্যক্তি শুধু সম্পদ বৃদ্ধির জন্য কাজ করে, সে শয়তানের পথে কাজ করে। (বায়হাকী) ।

আমরা অভ্যাসগত কাজগুলোকে আল্লাহর ইচ্ছায় ইবাদতে পরিণত করতে পারি। আল্লাহ তায়ালা মুসলিম উম্মাহকে প্রতিটি হালাল কাজ সঠিক নিয়তে করার তাওফীক দান করুন। আমীন।

আরও পড়ুন

ইসলামের দৃষ্টিতে আদর্শ স্ত্রীর বৈশিষ্ট্য

    1 Comment

    Leave a Reply

    Your email address will not be published.

    X