June 19, 2024

Warning: Undefined array key "tv_link" in /home/admin/web/timetvusa.com/public_html/wp-content/themes/time-tv/template-parts/header/mobile-topbar.php on line 53
টয়লেটের সেপটিক ট্যাংকে পঁচা-গলা খন্ডিত দেহাংশ: ডরিনের প্রতিক্রিয়া

টয়লেটের সেপটিক ট্যাংকে পঁচা-গলা খন্ডিত দেহাংশ: ডরিনের প্রতিক্রিয়া

টয়লেটের সেপটিক ট্যাংকে পঁচা-গলা খন্ডিত দেহাংশ: ডরিনের প্রতিক্রিয়া

টয়লেটের সেপটিক ট্যাংকে পঁচা-গলা খন্ডিত দেহাংশ: ডরিনের প্রতিক্রিয়া

কলকাতার সঞ্জীব গার্ডেনের সেপটিক ট্যাঙ্ক থেকে মানবদেহের খণ্ড খণ্ড পঁচাগলা অংশ উদ্ধার করা হয়েছে। একটি অসমর্থিত সূত্র অনুসারে, মঙ্গলবার (২৮ মে) বিকেলে, কলকাতার নিউটাউনের সঞ্জিভা গার্ডেনের ফ্ল্যাটের টয়লেটের সেপটিক ট্যাঙ্ক থেকে টুকরো টুকরো দেহের অংশ উদ্ধার করা হয় যেখানে আনোয়ারুল আজিম আনারকে হত্যা করা হয়েছিল।

প্রাথমিকভাবে চার কেজি ওজনের ‘মাংসের টুকরো’ পাওয়া গেছে বলে জানা গেছে। এদিন শৌচাগারের সেপটিক ট্যাঙ্কে তল্লাশি করে ও নর্দমার পাইপ ভেঙে এসব মাংস উদ্ধার করা হয়। তবে উদ্ধারকৃত মাংস এমপি আজিমের কিনা তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। মাংসের টুকরোগুলো এমপি আজিমের কিনা তা দেখতে ফরেনসিক ল্যাবে নিয়ে যাওয়া হবে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

জানা গেছে, মঙ্গলবার (২৮ মে) বিকেলে ভূষণ শেখ নামে এক পরিচ্ছন্নতাকর্মী সেপটিক ট্যাঙ্ক পরিষ্কার করার সময় ‘মাংসের টুকরো’ উদ্ধার করেন। মাংস ছোট ছোট টুকরো করে কেটে নিন। দীর্ঘদিন পানিতে থাকার কারণে সেগুলো সাদা হয়ে গেছে।

উল্লেখ্য, মঙ্গলবার সকালে ঢাকা ডিবি প্রধান হারুন-অর-রশিদ আনারের লাশের সন্ধানে সঞ্জীব গার্ডেনের ফ্ল্যাটের কমোড ও পয়ঃনিষ্কাশন লাইন ভাঙতে সিআইডিকে অনুরোধ করেন। হাতিশালা লেকে অনুসন্ধানেরও অনুরোধ করেন তিনি। এরপর ফ্ল্যাটের টয়লেটের সেপটিক ট্যাঙ্ক থেকে এই মাংসের টুকরো উদ্ধার করা হয় বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।

এই ঘটনায় সঞ্জীব টাউনের বাগান রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা কর্মী সিদ্ধেশ্বর মুর্মু বলেন, আমি যথারীতি কাজ থেকে ফিরছিলাম। তখন দেখলাম সেখানে প্রচুর লোকের ভিড় এবং অনেক খানি মাংসের  উঠে এসেছে। কিন্তু আমাকে সেখানে বেশিক্ষণ থাকতে দেওয়া হয়নি। পুলিশ ও উদ্ধারকারীরা ভেতরে রয়েছে। উদ্ধারকৃত অংশের ওজন হবে তিন থেকে চার কেজি।

তিনি আরও বলেন, মনে হচ্ছে মাংস কেটে কমোডে ফ্ল্যাশ করা হয়েছে। পরে সেপটিক ট্যাঙ্কে পাইপ করা হয়।

এদিকে, সেপটিক ট্যাঙ্ক থেকে দেহের অংশ উদ্ধারের বিষয়ে তদন্তের সঙ্গে যুক্ত একজন জানিয়েছেন, কলকাতার সঞ্জীব গার্ডেনের সেপটিক ট্যাঙ্ক থেকে দেহের কিছু অংশ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে আমরা এখনও নিশ্চিত নই যে এটি সংসদ সদস্যের কিনা। ডিএনএ পরীক্ষার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।

তিনি আরও বলেন, ডিবির অনুরোধে গতকাল সকালে কলকাতা সিআইডি সেফটি ট্যাঙ্ক ভেঙে তল্লাশি শুরু করে। পরে বিকেলে সিআইডি ট্যাঙ্কে অনুসন্ধান করে প্রত্যাশিত ফল পায়।

এ প্রসঙ্গে সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজিম আনারের মেয়ে মুমতারিন ফেরদৌস ডোরীন মঙ্গলবার (২৮ মে) রাতে মুঠোফোনে বলেন, লাশ উদ্ধারের খবর গণমাধ্যমে দেখেছি। পুলিশ আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি। যে টুকরোটা আমার বাবার, আমি অবশ্যই যাবো যদি কলকাতা পুলিশ আমাকে ডিএনএ স্যাম্পল দিতে বলে।

ডোরিন আরও বলেন, ‘আমার বাবাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। আমরা এর সঙ্গে জড়িত সবার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। বাবা হত্যার সঙ্গে আর কেউ জড়িত আছে কি না, তার সুষ্ঠু তদন্ত করা হোক। কাউকে বাদ দেওয়া উচিত নয়।

উল্লেখ্য, ঝিনাইদহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজিম আনার ১২ মে চিকিংসার উদ্দেশ্যে ভারতে যান। পরদিন ১৩ মে দুপুর ১টা ৪১ মিনিটে ভারতে বন্ধু গোপালের বাড়ি থেকে নিখোঁজ হন। পিএম এরপর তাকে কলকাতার নিউটাউন এলাকার একটি আবাসিক ভবনে হত্যা করা হয় বলে জানিয়েছে কলকাতা পুলিশ। তবে তারা কোনো লাশ উদ্ধার করতে পারেনি। অবশেষে মঙ্গলবার ভবনের টয়লেটের সেপটিক ট্যাঙ্ক থেকে লাশগুলো উদ্ধার করা হয়েছে বলে তদন্ত সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

বলা হচ্ছে ঢাকায় বসে ২/৩ মাস আগে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়। ঢাকায় আসতে না পারা ঝিনাইদহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজিম আনার প্রতারণায়  পড়ে  কলকাতায় চলে গেলেন। সেখানে তাকে হত্যার পর লাশ টুকরো টুকরো করে হাড়-মাংস আলাদা করা হয়। এরপর হলুদ মিশিয়ে ব্যাগে ভরে ওই বাড়ি থেকে বের করে আনা হয়। তবে দেহের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ কোথায় ফেলে দেওয়া হয়েছে তা এখনও স্পষ্ট নয়।

বৃহস্পতিবার বেলা ৩টার দিকে রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিবি কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (গোয়েন্দা) মোহাম্মদ হারুন অর রশিদ।

প্রত্যক্ষদর্শী ও আবাসন পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থার কর্মী সিদ্ধেশ্বর মন্ডল বলেন, মাংসগুলো লবণাক্ত পানি দিয়ে কাঁচের পাত্রে রাখা হয়েছিল। ঝিনাইদহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজিম চিকিৎসার জন্য ভারতের পশ্চিমবঙ্গের সঞ্জীব গার্ডেনে খুন হয়েছেন।

সাংসদ আজিমকে হত্যার পর তার মাংস ও হাড় টুকরো টুকরো করে ফেলে। মাংসের প্রতিটি টুকরা ছিল ৭০ থেকে ১০০ গ্রাম। পেশায় একজন কসাই মাংস কেটে তার সাথে একটি ছোট ওজনের মেশিনে কয়েক টুকরো মাংস ওজন করেন। আজিমের মাথা অর্ধেক কেটে টুকরো টুকরো করা হয়। গত সোমবার, গোয়েন্দারা জিহাদকে নিউটাউনের একটি ফ্ল্যাটে নিয়ে যায় যেখানে তাকে প্রথমে বালিশ দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়, এরপর মেঝের কোনো জায়গায় প্লাস্টিক পেতে তার দেহ জিহাদ ও সিয়াম টুকরো করতে শুরু করে।

ফ্ল্যাটে বসে বাংলাদেশের গোয়েন্দা কর্মকর্তা ভিডিও কল করে ঘটনার দৃশ্য দেখিয়ে প্রধান আসামি আমানউল্লাহকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। তারা আমানুল্লাহ ও জিহাদের বক্তব্য যাচাই করে। আর যে অস্ত্র দিয়ে শরীরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ কাটা হয়েছে, সেগুলোও কৃষ্ণমতি ও বাগজোলা খালে ডুবরী দিয়ে খুঁজছে সিআইডি। গোটা ঘটনার কিনারা পেতে দুই দেশের পুলিশ একসঙ্গে এই হত্যাকাণ্ডের তদন্ত চালাচ্ছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশের গোয়েন্দা কর্মকর্তারা।

আরও পড়ুন

কলকাতায় খুন এমপি আনোয়ারুল আজীম আনার

    Leave a Reply

    Your email address will not be published.

    X