২১ দিনে রিজার্ভ কমেছে দুই চতুর্থাংশ অর্থাৎ পৌনে দুই বিলিয়ন ডলার

২১ দিনে রিজার্ভ কমেছে দুই চতুর্থাংশ অর্থাৎ পৌনে দুই বিলিয়ন ডলার

২১ দিনে রিজার্ভ কমেছে দুই চতুর্থাংশ অর্থাৎ পৌনে দুই বিলিয়ন ডলার

২১ দিনে রিজার্ভ কমেছে দুই চতুর্থাংশ অর্থাৎ পৌনে দুই বিলিয়ন ডলার

দেশে দীর্ঘদিন ধরে ডলারের সংকট চলছে। সংকটের পর রেমিট্যান্স ও রপ্তানি আয় বাড়ছে না। বিজিএমইএর স্টেকহোল্ডাররা বলছেন, ২০২৩ সালে ইউরোপের বাজারে নেতিবাচক প্রবণতা অব্যাহত ছিল। ২০২৪ সালেও ইতিবাচক প্রবণতা নেই। এখন দেখতে হবে আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি কোন দিকে যায়। এর বাইরে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কমছেই।

কয়েক মাস ধরে মার্কিন বাজারে রপ্তানি নিয়ে উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ জাতীয় নির্বাচনের জন্য বাংলাদেশের সমর্থনের কথা উল্লেখ করে গত বছরের মে মাসে যুক্তরাষ্ট্র নতুন ভিসা নীতি ঘোষণা করে। এরপর নভেম্বরে বিশ্বজুড়ে শ্রম অধিকার রক্ষায় যুক্তরাষ্ট্র নতুন নীতি-কাঠামো ঘোষণা করে। ফলে দেশে বাংলাদেশের রপ্তানি বাণিজ্যে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

দেশে দীর্ঘদিন ধরে ডলারের সংকট চলছে। এই সংকট থেকে উত্তরণের অন্যতম উপায় রেমিট্যান্স ও রপ্তানি আয় বৃদ্ধি করা। কিন্তু কোন সুখবর নেই। অন্যদিকে, আমদানি চাহিদা মেটাতে প্রতিদিনই ডলার বিক্রি করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ফলে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কমছে।

৩ জানুয়ারি বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ছিল ২,৭০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। সংকটের কারণে ডলার বিক্রি অব্যাহত থাকায় ২১ দিনে তা ২৫২৩ মিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে। অর্থাৎ এই ২১ দিনে রিজার্ভ থেকে ১৭৮ মিলিয়ন ৩০ ডলার কমেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ২৪ জানুয়ারি বাংলাদেশ ব্যাংকের গ্রস রিজার্ভ কমে ২ হাজার ৫৩৩ কোটি (২৫ দশমিক ২৩ বিলিয়ন) ডলারে দাঁড়িয়েছে। আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুযায়ী BPM-৬ পদ্ধতির ভিত্তিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবের সাথে ৫২১ কোটি  ডলারের পার্থক্য রয়েছে। অর্থাৎ BPM-৬ ম্যানুয়াল অনুযায়ী, গ্রস রিজার্ভ এখন ২ হাজার ২ মিলিয়ন ডলার বা ২০.০২ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ ২১ দিনে গ্রস রিজার্ভ ১৭৭ মিলিয়ন ডলার (১.৭৭ বিলিয়ন) কমেছে এবং BPM-৬ অনুসারে এটি ১৭২ মিলিয়ন ডলার (১.৭২ বিলিয়ন) কমেছে।

২০২৩-২৪ আর্থিক বছরের শুরুতে, গ্রস রিজার্ভ ছিল $২৯.৭৩ বিলিয়ন এবং BPM-৬ অনুযায়ী এটি ছিল $২৩.৩৭ বিলিয়ন।

এর বাইরে বাংলাদেশ ব্যাংকের নিট বা প্রকৃত রিজার্ভের আরেকটি হিসাব আছে, যা শুধুমাত্র আইএমএফকে দেওয়া হয়, প্রকাশ করা হয় না। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দেশের প্রকৃত রিজার্ভ এখন ১৬ বিলিয়ন ডলারের নিচে। প্রতি মাসে প্রায় ৬ বিলিয়ন ডলারের এই রিজার্ভ দিয়ে তিন মাসের আমদানি ব্যয় মেটানো বাংলাদেশের জন্য কঠিন হবে। সাধারণত একটি দেশের ন্যূনতম 3 মাসের আমদানি খরচের সমান রিজার্ভ থাকা উচিত। বাংলাদেশ এখন সেই মানদণ্ডের তলানিতে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, সংকটের কারণে বাজারে রিজার্ভ থেকে প্রচুর ডলার বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া চলতি মাসে আকুর বিলও পরিশোধ করা হয়েছে। রপ্তানি ও রেমিট্যান্স প্রবাহ কম হওয়ায় রিজার্ভ সঙ্কুচিত হচ্ছে।

রিজার্ভ কিভাবে তৈরি করা হয়?

রেমিটেন্স, রপ্তানি আয়, বৈদেশিক বিনিয়োগ, বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থার ঋণ থেকে প্রাপ্ত ডলার দিয়ে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ তৈরি হয়। আবার আমদানি ব্যয়, ঋণের সুদ বা কিস্তি পরিশোধ, বিদেশি শ্রমিকদের বেতন-ভাতা, পর্যটক বা ছাত্রশিক্ষাসহ বিভিন্ন খাতে যে ব্যয় হয় তার মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা চলে যায়। এভাবে আয় ও ব্যয়ের পর অবশিষ্ট ডলার রিজার্ভে যোগ করা হয়। আর খরচ বা ব্যয় বেশি হলে রিজার্ভ কমে যায়।

আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি ও বিভিন্ন পণ্যের উচ্চমূল্যের কারণে আমদানি ব্যয় কমেনি। এছাড়া করোনার পর বৈশ্বিক বাণিজ্য এখনো আগের অবস্থায় ফিরে আসেনি। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের শুরু থেকেই দেশটির ডলার-সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে, যা আজও অব্যাহত রয়েছে। এ সংকট দিন দিন বাড়ছে।

রিজার্ভ থেকে ডলার বিক্রি:

বাজারে ‘স্থিতিশীলতা’ আনতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক নিয়মিত রিজার্ভ থেকে ডলার বিক্রি করছে। চলতি অর্থবছর২০২৩-২৪ সালের ১৬ জানুয়ারি পর্যন্ত কেন্দ্রীয় ব্যাংক ৭.৬ বিলিয়ন ডলার বিক্রি করেছে। একই সময়ে বাংলাদেশ ব্যাংক কয়েকটি বাণিজ্যিক ব্যাংকের কাছ থেকে এক বিলিয়ন ডলারের মতো ক্রয় করেছে, যার পরিমাণ ১ বিলিয়ন ডলার।

২০২২-২৩ অর্থবছরে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বিভিন্ন ব্যাংকের কাছে $১৩.৫৮ বিলিয়ন বিক্রি করেছে। এর আগের আর্থিক বছরে (২০২১-২২), এটি ৭.৬২ বিলিয়ন ডলার বিক্রি করেছে।

উল্লেখ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) দেশগুলো সবচেয়ে বড় বাজার। আর একক বৃহত্তম বাজার হল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। উভয় বাজারেই দেশের তৈরি পোশাক রপ্তানিতে নিম্নমুখী প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) এবং বিজিএমইএর তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বাজারে পোশাক রপ্তানি আগের বছরের তুলনায় কমেছে।

উদ্যোক্তারা জানান, দেশের প্রধান রপ্তানি পণ্য তৈরি পোশাক। মোট রপ্তানি আয়ের ৮৫ শতাংশ আসে এ খাত থেকে। এর মধ্যে ৫০ শতাংশ পোশাক রপ্তানি হয় ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলোতে। এবং একক দেশ হিসাবে, রপ্তানি আয়ের ২০ থেকে ২২ শতাংশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে আসে। তবে রপ্তানি আয়ের সবচেয়ে বড় বাজার যুক্তরাষ্ট্র ও ইইউতে রপ্তানি নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের মতো বড় ও গুরুত্বপূর্ণ বাজারে রপ্তানি কমে যাওয়া উদ্যোক্তাদের ভাবিয়ে তুলেছে।

এমন অবস্থা চলতে থাকলে রপ্তানি খাতে বিপদ হতে পারে বলে মনে করছেন তারা এবং রিজার্ভ আরও কমতেই থাকবে।

    Leave a Reply

    Your email address will not be published.

    X