মামলা তুলে নিতে শিশু আয়ানের বাবাকে হুমকিঃ থানায় জিডি

মামলা তুলে নিতে শিশু আয়ানের বাবাকে হুমকিঃ থানায় জিডি

মামলা তুলে নিতে শিশু আয়ানের বাবাকে হুমকি, থানায় জিডি

মামলা তুলে নিতে শিশু আয়ানের বাবাকে হুমকিঃ থানায় জিডি

রাজধানীর ইউনাইটেড মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে খতনা করাতে গিয়ে ভুল চিকিৎসায় শিশু আয়ানের মৃত্যুর ঘটনায় মামলা তুলে নিতে তার শামীম আহমেদেকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় শামীম আহমেদ একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।

রোববার শামীম আহমেদ রাজধানীর শাহবাগ থানায় একটি জিডি করেন।

জিডি প্রতিবেদনে বলা হয়, আয়ানের বাবা শামীম আজ সকাল ১১টায় হাইকোর্টে ২০১/২৪ নম্বর রিট আবেদনের শুনানির জন্য আসেন। শুনানি শেষে বের হয়ে বেলা সাড়ে ১২টার দিকে হাইকোর্টের মাজার গেট থেকে হেঁটে বাংলাদেশ শিশু একাডেমির দিকে যাচ্ছিলেন তিনি। পথে ফুটপাতের ওপর পৌঁছালে বাড্ডা থানায় করা মামলার এজাহারনামীয় আসামি ডা. সাইদ সাব্বির আহম্মেদ ও ডা. তাসনুভা মাহজাবিন এবং ইউনাইটেড হাসপাতালের অজ্ঞাতনামা আসামিদের পক্ষে ৬-৭ জন অজ্ঞাত ব্যক্তি মামলা তুলে নিতে চাপ দেন।  অন্যথায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানির হুমকি দেয়া হয় তাকে।

এর আগে গত ২৫ জানুয়ারি হাইকোর্টের ক্যান্টিনের সামনে অজ্ঞাতপরিচয় ৩ ব্যক্তি একইভাবে ভয়ভীতি দেখিয়ে আসামিদের পক্ষে মামলা তুলে নেওয়ার হুমকি দেন বলেও জিডিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, গত ৩১ ডিসেম্বর বাড্ডা ইউনাইটেড মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সম্পূর্ণ অ্যানেসথেসিয়ায় খতনা করা হয় অয়নের। অপারেশনের কয়েক ঘণ্টা পরও জ্ঞান না আসায় অয়নকে গুলশানের ইউনাইটেড হাসপাতালে পাঠানো হয়। পেডিয়াট্রিক ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে (পিআইসিইউ) ৭ দিন লাইফ সাপোর্টে রাখার পর ৭ জানুয়ারি অয়নকে মৃত ঘোষণা করে চিকিৎসক।

এ ঘটনায় বাড্ডা ইউনাইটেড মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। গত ১৪ জানুয়ারি এক অফিস বিজ্ঞপ্তিতে এ আদেশ দেওয়া হয়। ইউনাইটেড মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবন্ধন না থাকায় এ আদেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

এদিকে ছেলের মৃত্যুর ঘটনায় ২ চিকিৎসক ডা. শামীম আহমেদ বাদী হয়ে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক ও কর্মচারী সাঈদ সাব্বির আহমেদ ও চিকিৎসক তাসনুভা মাহজাবিনকে আসামি করে মামলা করেন।

একই প্রতিবেদনে খতনার সময় মৃত্যুর ঝুঁকি এড়াতে চারটি সুপারিশ করা হয়েছে।

এগুলো হলো-

  • হাসপাতালে একাধিক অ্যানেস্থেসিওলজিস্ট নিয়োগ,
  • অ্যানেসথেসিয়া ও সার্জারির ঝুঁকি সম্পর্কে রোগী ও তার স্বজনদের ভালোভাবে অবহিত করা,
  • হাসপাতালে আইসিইউ ব্যবস্থা চালু রাখা,
  • সরকারের অনুমোদনের পর হাসপাতালের কার্যক্রম শুরু করা।

এর আগে বাড্ডা ইউনাইটেড মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে খতনা করায় অচেতন হওয়া অয়নের পরিবারকে এক কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট করা হয়।

রিটে আয়ানের চিকিৎসা করা চিকিৎসকদের সার্টিফিকেট বাতিল এবং ইউনাইটেড হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। গত ৯ জানুয়ারি সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট শাহজাহান আকন্দ মাসুম জনস্বার্থে এই রিটটি করেন।

ওই রিটের শুনানি শেষে বাড্ডার ইউনাইটেড মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও ইউনাইটেড গ্রুপ হাসপাতালকে এ পর্যন্ত কতজন রোগী মারা গেছেন তা জানাতে নির্দেশ দেন হাইকোর্ট।

একই সঙ্গে আয়ানের মৃত্যুর ঘটনায় তার পরিবারকে পাঁচ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ কেন দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন হাইকোর্ট। এছাড়া শিশুটির মৃত্যুর তদন্ত করে সাত দিনের মধ্যে আদালতে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। এছাড়া দেশের অনুমোদিত ও অননুমোদিত হাসপাতাল-ক্লিনিকের তালিকা এক মাসের মধ্যে আদালতে জমা দিতে বলা হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে এ নির্দেশনা বাস্তবায়ন করতে বলা হয়েছে।

গত ১৫ জানুয়ারি আতাবুল্লাহর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন মোস্তফা জামান ইসলাম ও বিচারপতি মো. আতাবুল্লাহ।

৩১ ডিসেম্বর শিশু আয়ানের বাবা শামীম আহমেদ বাড্ডা ইউনাইটেড মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আসেন। সেখানে অস্ত্রোপচারের আগে শিশুটিকে অ্যানেসথেসিয়া দেওয়া হয়।

পরে ৭ জানুয়ারি রাত ১১টা ২০ মিনিটে ইউনাইটেড হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করে। এই হাসপাতালের পিআইসিইউতে চিকিৎসাধীন ছিলেন শিশু আয়ান।

জানা গেছে, শিশুটিকে অ্যানেসথেসিয়া প্রয়োগ করায় ডা. সাব্বির আহমেদ। আর অস্ত্রোপচার করেছেন ডা. মেহজাবীন।

এর আগে গত ১৫ জানুয়ারি রাজধানীর ইউনাইটেড মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও ইউনাইটেড গ্রুপ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসার পর এ পর্যন্ত কত রোগী মারা গেছেন তা জানাতে নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। তবে এদিন আদালত মৌখিক আদেশ দেন।

ইউনাইটেড হাসপাতালে কত রোগীর মৃত্যু হয়েছে, জানতে চায় হাইকোর্ট ।এছাড়া দেশের সব সরকারি অনুমোদিত ও অননুমোদিত হাসপাতাল ক্লিনিকের তালিকা ১ মাসের মধ্যে আদালতে জমা দিতে বলা হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে এ নির্দেশনা বাস্তবায়ন করতে বলা হয়েছে।

আদালত এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এত পদক্ষেপের পরও শিশু আইনের বাবাকে বারবার হুমকি দেওয়া হচ্ছে তাও প্রাণনাশের হুমকি।

    Leave a Reply

    Your email address will not be published.

    X