May 25, 2024

Warning: Undefined array key "tv_link" in /home/admin/web/timetvusa.com/public_html/wp-content/themes/time-tv/template-parts/header/mobile-topbar.php on line 53
বন্ধই হচ্ছেনা রিজার্ভের পতন

বন্ধই হচ্ছেনা রিজার্ভের পতন

বন্ধই হচ্ছেনা রিজার্ভের পতন

বন্ধই হচ্ছেনা রিজার্ভের পতন

বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আসলে কী?

[সংক্ষেপে বলতে গেলে বলা যায়, যেকোনো দেশের আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে তাদের মোট অর্থের একটি অংশ কেন্দ্রীয় ব্যাংকে (বাংলাদেশের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক) জমা দিতে হয়। এ টাকা তারা ঋণ বা অন্য কোনো কাজে ব্যয় করতে পারবে না। এবং রপ্তানি, রেমিট্যান্স, ঋণ বা অন্যান্য উত্স থেকে বৈদেশিক মুদ্রার মতো বিভিন্ন খাতে যে বৈদেশিক মুদ্রা যায় তা বাদ দেওয়ার পরে, বৈদেশিক মুদ্রা হল বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ।]

ঠিক এমনিভাবেই বৈদেশিক মুদ্রা; আয়ের চেয়ে ব্যয় বেশি হওয়ায় দেশের রিজার্ভ ক্রমাগত কমছে। রিজার্ভের ধ্বস ঠেকাতে বাজারে ডলারের প্রবাহ বাড়াতে বহুপাক্ষিক সিদ্ধান্তসহ নানা বিধিনিষেধ আরোপ করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। কিন্তু বাস্তবে এর সুফল মিলছে না। উল্টো ডলারের সংকটকে আরও প্রকট করে তুলছে। টাকার মান কমছে। মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়ছে।

চলতি অর্থবছরের শুরু থেকেই বৈদেশিক ঋণ পরিশোধের চাপ সামলাতে হচ্ছে সরকারকে। ঋণ পরিশোধের জন্য রিজার্ভ থেকে ডলার বিক্রি অব্যাহত থাকায় রিজার্ভের অবক্ষয় দ্রুতগতিতে বেড়েছে। অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) নির্দিষ্ট পরিমাণ রিজার্ভ নির্ধারণ করেছে। বর্তমানে এর চেয়ে কম মজুদ রয়েছে। বর্তমান গ্রস রিজার্ভ গত ৯ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন।রেমিটেন্স কমে যাওয়ায় বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ক্রমাগত কমছে।

রেমিটেন্সের নিম্নমুখী প্রবাহ এই পতনকে ত্বরান্বিত করেছে। এই মাসে ২৬দিনে রিজার্ভ ২ বিলিয়ন ডলারের বেশি কমেছে, যা এক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। শিগগিরই মজুদ কমে যাওয়ার সম্ভাবনা নেই বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সূত্র জানায়, রপ্তানি আয়, রেমিটেন্স, বিদেশি বিনিয়োগ ও বৈদেশিক অনুদান থেকে বাজারে ডলারের প্রবাহ বেড়েছে। এই ৪টি খাতে আয়ের প্রবাহ নিম্নমুখী। গত বছরের এপ্রিল থেকে দেশে ডলার সংকট শুরু হয়। ফলে ডলারের দাম ৮৮ টাকা থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১০ টাকা ৫০ পয়সা। ব্যাংকের তুলনায় কার্ব মার্কেটে ডলারের দাম প্রায় ৭ থেকে ৮ টাকা বেশি। ফলে রেমিট্যান্সের বড় অংশ যাচ্ছে হুন্ডিতে। যখন মানি চেঞ্জার এবং কার্ব মার্কেটগুলো ডলারের দাম নিয়ন্ত্রণে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করতে শুরু করে, তখন ডলারের লেনদেন সেখানে স্থবির হয়ে পড়ে। এখন কিছু লেনদেন হলেও দাম ১১৮ থেকে ১১৯ টাকা। এতে ডলারের প্রবাহ বাড়েনি। বরং কমেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা মনে করেন, ডলারের দাম বাড়ার চেয়ে স্থানীয় মুদ্রায় টাকা শক্তিশালী রাখার বর্তমান ব্যবস্থার কারণে রেমিট্যান্স কমছে। এই নীতি মোটেও কার্যকর নয়। শীর্ষ কর্মকর্তারা বিষয়টি মানতে চান না, ফলে রিজার্ভের পতন রোধ হচ্ছে না।

ডলারের প্রবাহ বাড়ছে না কারণ: ডলারের প্রবাহ বাড়াতে হলে রপ্তানি আয় বাড়াতে হবে। সেটা সম্ভব না. রপ্তানি আয় কমছেই । ২০২১-২২ অর্থবছরে রপ্তানি আয় ৩৪.৩৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। গত অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি ছিল মাত্র ৬ দশমিক ৬৭ শতাংশ। এক বছরে রপ্তানি আয়ের প্রবৃদ্ধি প্রায় ২৭ শতাংশ কমেছে।

গত ৩ মাসে রেমিট্যান্স ৫৭৭ মিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। গত অর্থবছরের জুলাই-আগস্টে তা বেড়েছে ১২.২৭ শতাংশ। চলতি অর্থবছরের একই সময়ে বৃদ্ধির পরিবর্তে প্রবৃদ্ধি কমেছে ১৩ দশমিক ৫৬ শতাংশ।

বিদেশী অনুদানের গতিও হ্রাস পেয়েছে: অনুদান ২০২১-২২ অর্থবছরে ৫১.৭৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। গত অর্থবছরে তা বৃদ্ধির পরিবর্তে কমেছে ১১ দশমিক ৫ শতাংশ। গত অর্থবছরের জুলাইয়ে বেড়েছে ৮৪ দশমিক ৩৯ শতাংশ। চলতি অর্থবছরের একই সময়ে তা কমেছে ৩৩.১৩ শতাংশ। জুন এবং জুলাই মাসে মাত্র $৩২০ মিলিয়ন অনুদান এসেছে।

২০২১-২২ সালে বিদেশী বিনিয়োগ $১.৮৩ বিলিয়ন ছিল, যা আগের অর্থবছরে $১.৬১ বিলিয়ন ছিল। তবে জুলাইয়ে বিনিয়োগ কিছুটা বেড়েছে। গত বছরের একই সময়ে ১৭ কোটি এবং এ বছর একই সময়ে ১৮ কোটি টাকা। উল্টো শেয়ারবাজার থেকে বিদেশি বিনিয়োগ প্রত্যাহারের প্রবণতা বেড়েছে।

এদিকে আমদানি নিয়ন্ত্রণের পরও বৈদেশিক মুদ্রার ব্যবহার আবার বাড়তে শুরু করেছে। এদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলসহ বিভিন্ন পণ্যের দাম বাড়তে শুরু করেছে। ফলে এ খাতে ব্যয় বাড়বে। এতে বৈদেশিক মুদ্রার ওপর আরও চাপ পড়বে।

এর বাইরে বিদেশি কোম্পানির মুনাফা নেওয়া, রয়্যালটি দেওয়া এবং বাংলাদেশে কর্মরত বিদেশিদের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার জন্য বেশি ডলার খরচ হচ্ছে। এ ছাড়া বিলম্বিত ঋণ ও স্বল্পমেয়াদি ঋণ পরিশোধ করতে হয়। এ বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে অন্তত আরও ৬ বিলিয়ন ডলার পরিশোধ করতে হবে। এসব ব্যয় বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের চেয়ে বেশি।

সাম্প্রতিক সময়ে বৈদেশিক ঋণ গ্রহণও কমেছে। এ কারণে ডলারের প্রবাহ বাড়ছে না। আগে বৈদেশিক ঋণের সুদের হার কম ছিল। এখন কেউ উচ্চ সুদে ঋণ নিতে চায় না।

২০২১ সালের আগস্টে, যখন রেমিট্যান্স বৃদ্ধি পায়, আমদানি হ্রাস পায় এবং করোনার সময় আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের মূল্য হ্রাস পায়, তখন রিজার্ভ সর্বোচ্চ ৪৮ বিলিয়ন বা ৪ হাজার ৮০৬ মিলিয়ন ডলারে বৃদ্ধি পায়। এখন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৭০৬ মিলিয়ন ডলার এবং নেট হিসাবে ২ হাজার ১১৫ মিলিয়ন ডলার। যা দিয়ে ৩ মাসের একটু বেশি আমদানি ব্যয় নিয়ন্ত্রিতভাবে মেটানো যাবে। রিজার্ভের অব্যাহত নিম্নমুখী প্রবণতা আমদানিকারকদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে।

আরও জানুন

বাংলাদেশ ব্যাংকের ডলার বিক্রি: কমে যাচ্ছে রিজার্ভ

সেপ্টেম্বরের শেষের দিকে আইএমএফের শর্ত মেনে রিজার্ভ সংরক্ষণে ব্যর্থ হয়েছে বাংলাদেশ। IMF ঋণের শর্ত অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরে প্রকৃত রিজার্ভ $২৫.৩২ বিলিয়ন হওয়ার কথা ছিল। তবে এর চেয়ে ৪.১৭ বিলিয়ন ডলার কম।

অর্থনীতিবিদ ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, দেশের রপ্তানি ও রেমিট্যান্সের গতি ভালো নয়। প্রয়োজনীয় পণ্যও আমদানি করতে হবে। এতে রিজার্ভ আরও কমে যাবে। তবে রিজার্ভ বাড়ানোর তেমন কোনো উদ্যোগ নেই। ডলারে আয় বাড়াতে বিভিন্ন উৎস খুঁজে বের করতে হবে।

    1 Comment

    Leave a Reply

    Your email address will not be published.

    X