May 25, 2024

Warning: Undefined array key "tv_link" in /home/admin/web/timetvusa.com/public_html/wp-content/themes/time-tv/template-parts/header/mobile-topbar.php on line 53
দুদক কর্মকর্তা যখন নিজেই দুর্নীতিবাজ

দুদক কর্মকর্তা যখন নিজেই দুর্নীতিবাজ

দুদক কর্মকর্তা যখন নিজেই দুর্নীতিবাজ

দুদক কর্মকর্তা যখন নিজেই দুর্নীতিবাজ

বেড়ায় যখন ক্ষেত খেয়ে ফেলে, পাহারাদার যখন নিজেই চুরি করে তখন আর বাইরে থেকে ছাগলের ক্ষেত খেতে হয় না,এবং বাইরের চোরেরও  প্রয়োজন হয় না । সেরকম একটি উন্নত মানের ঘটনা ঘটিয়েছেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) উপ-পরিচালক মুহ. মাহবুবুল আলম । তিনি স্বয়ং দুদকের ছায়াতলে নামে- বেনামে কোটি কোটি টাকার সম্পত্তি বানিয়েছেন। আবার সর্বশেষ তিনিও ধরা।

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) উপ-পরিচালক মুহ. মাহবুবুল আলমের বিরুদ্ধে তদন্তের সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুর্নীতি দমন সংস্থা। সম্প্রতি কমিশন বিষয়টি তদন্তের সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর বৃহস্পতিবার (১০ আগস্ট) দুদকের পরিচালক শফিকুল ইসলাম ভূঁইয়ার নেতৃত্বে তিন সদস্যের তদন্ত দল গঠন করা হয়।

দুদক সূত্র জানায়, মাহবুবুল আলমের বিরুদ্ধে আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে তিন সদস্যের তদন্ত দলকে তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। দলের অন্য সদস্যরা হলেন দুদকের উপ-পরিচালক হাফিজুল ইসলাম ও সহকারী পরিচালক নেয়ামুল গাজী।

দুদক সূত্র জানায়, মাহবুবুল আলম ২৮ বছর আগে দুর্নীতি দমন সংস্থায় পরিদর্শক হিসেবে যোগ দেন। এরপর তিনি উপ-পরিচালক পদে পদোন্নতি পান। বর্তমানে তিনি কমিশনের সমন্বিত জেলা কার্যালয়, ঢাকা-২ এ কর্মরত আছেন। তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের সঙ্গে জড়িত দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের ছেড়ে দেওয়ার বিনিময়ে কোটি কোটি টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

মাহবুবুল আলমের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, ঘুষ গ্রহণ, বরগুনার আমতলী উপজেলার নিজ গ্রামে কয়েকশ বিঘা জমি নিজের নামে।  স্ত্রী, কন্যা ও নিকটাত্মীয়দের নামে শান্তিনগর ও রামপুরায় বিপুল সম্পত্তি নির্মাণসহ নানা অভিযোগ রয়েছে। মূলধন, বিভিন্ন কোম্পানিতে বিনিয়োগ। এসব অভিযোগের অভ্যন্তরীণ তদন্ত করে দুদক। তিন বছর তদন্তের পর বেশ কিছু অভিযোগের প্রমাণও পাওয়া গেছে। তবে তার বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ তদন্ত প্রতিবেদনে প্রতিফলিত হয়নি বলে মনে করছে দুদক। তাই এসব অভিযোগের বিষয়ে একটি বিশেষ সংস্থার মাধ্যমে তদন্ত চলছে।

২০১৯ সালে, দুদকের উপ-পরিচালক মাহবুবুল আলমের বিরুদ্ধে কমিশনে একটি অভিযোগ জমা দেওয়া হয়েছিল, অভিযোগ করা হয়েছিল যে তিনি ঘুষ ও দুর্নীতির মাধ্যমে বিপুল সম্পদ অর্জন করেছেন।

একই বছরের ৭ নভেম্বর তার বিরুদ্ধে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে একই ধরনের আরেকটি অভিযোগ দায়ের করা হয়। এরপর ওই বছরের ৩০ ডিসেম্বর মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ অভিযোগের প্রাসঙ্গিক নথি দুদকে পাঠিয়ে বিষয়টি তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ ও গৃহীত ব্যবস্থা সম্পর্কে অবহিত করার অনুরোধ জানায়। পরে অভিযোগ তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় দুদকের পরিচালক মুহাম্মদ ইউসুফকে। এর মধ্যে মাহবুবুল আলমের বিরুদ্ধে অনুরূপ আরেকটি অভিযোগ ২০২১ সালের ১৩ ডিসেম্বর দুদকে জমা দেওয়া হয়। তিন বছর তদন্তের পর তিনি ২৪ জানুয়ারি প্রতিবেদন দাখিল করেন।

দুদকের অভ্যন্তরীণ তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মাহবুবুল আলমের নামে ৪৫৫ একর জমি ও ২০ লাখ ১ হাজার ৩০০ টাকা বিনিয়োগের ১৮টি দলিল এবং ২৯ লাখ ৮৩ হাজার ৫৯১ টাকার অস্থাবর সম্পত্তি রয়েছে। এছাড়া পটুয়াখালীর গলাচিপা আড়তপট্টিতে ছয়টি দোকান কিনেছেন তিনি। গ্রামে তার ১ কোটি ৩ লাখ ৫১ হাজার টাকার কৃষি জমি রয়েছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, মাহবুবুল আলমের স্ত্রীর নামে ১৪টি নথিপত্রে ৩৫৪ শতক জমি কেনার প্রমাণ পাওয়া যায়। এ ছাড়া একটি কোম্পানিতে পাঁচ লাখ টাকা বিনিয়োগের কথা বলা হয়। তার মেয়ের নামে সাতটি নথিতে ১৪৫ দশমিক ৮৮ সেন্ট জমি, ২৬ লাখ টাকার গাড়ি ক্রয় ও ৫ লাখ টাকার বিনিয়োগসহ অন্যান্য সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে।

উপ-পরিচালক মাহবুবুল আলমের বিরুদ্ধে দুদকে দায়ের করা অভিযোগে বলা হয়েছে, পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলায় তার একটি জমি ও তিনতলা ভবন রয়েছে। এছাড়া বরগুনার আমতলীর সোনাখালী গ্রামে তার বসতবাড়িতে একটি দোতলা ভবন, পটুয়াখালীর পায়রা বন্দরের পাশে কলাপাড়ায় কয়েকশ বিঘা জমি, আমতলী উপজেলায় কয়েকশ বিঘা ধানের জমি ও তিনটি পুকুর রয়েছে। ঢাকার শান্তিনগরে তার ভাগ্নি ও জামাই হাবিবুর রহমানের নামে একটি ভবন এবং রামপুরায় একটি ছয়তলা ভবন।

অন্যদিকে, নয়াপল্টন এলাকায় চায়না-বাংলাদেশ মৈত্রী নামে বিশ তলা মার্কেটে ভগ্নিপতি হাবিবুর রহমানের নামে শেয়ার, আমতলী উপজেলার বাড়ি, হাবিবুর ও তার ছেলের নামে নতুন-পুরনো গাড়ির শোরুম। মিরপুরে দীপ্তি হাউজিং প্রকল্পের এক নিকটাত্মীয়ের নামে শেয়ারের মালিক ফারুক মৃধা, নজরুল এবং মশিউর প্রমুখকে দেখানো হয়েছে।

এছাড়া ঢাকা ও পাবনায় বোন, ফুফা, ভাগ্নে, শ্যালক ও শ্বশুর-শাশুড়ির নামে শত শত বিঘা জমি কিনেছেন। বেনামে বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে তার শত কোটি টাকার এফডিআর রয়েছে। গত বছরের শুরুতে ঢাকা অফিসে বদলি হওয়ার আগে প্রায় চার বছর দুদকের চট্টগ্রাম-২ সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে কর্মরত ছিলেন মাহবুবুল আলম। চট্টগ্রামে দুর্নীতির অভিযোগে সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ছাড়াও প্রভাবশালীদের সঙ্গে তার সখ্যতা গড়ে ওঠে বলে অভিযোগ রয়েছে।

আরও খবর

‘দুদকের চামড়া ছিঁড়ে ফেলব’ মাইজভান্ডারীর এমন বক্তব্য ঠিক হয়নি: হাইকোর্ট

    1 Comment

    Leave a Reply

    Your email address will not be published.

    X