তথ্য ফাঁসঃ সাজা ৫ বছরের কারাদণ্ড

তথ্য ফাঁসঃ সাজা ৫ বছরের কারাদণ্ড

তথ্য ফাঁসঃ সাজা ৫ বছরের কারাদণ্ড

তথ্য ফাঁসঃ সাজা ৫ বছরের কারাদণ্ড

হঠাৎ করেই দেশে বিভিন্নভাবে নাগরিকদের ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস হচ্ছে। এতে নাগরিকদের মধ্যে উদ্বেগ, আতঙ্ক ও আতঙ্ক বাড়ছে। অনেকেই আইটি বিশেষজ্ঞদের কাছে ছুটছেন। নিজের   এনআইডি বা ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষিত আছে কি না জানতে চান। এ বিষয়ে দেশের প্রচলিত বা বিশেষ আইন কী?

এই বিষয়ে, ২০১১ সালে প্রণীত তথ্য প্রকাশ (সুরক্ষা) আইনে বলা হয়েছে যে কেউ যদি কোনও ধরণের ব্যক্তিগত তথ্য বেআইনিভাবে প্রকাশ করে তবে তা অপরাধ হিসাবে বিবেচিত হবে। সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি আইনের মাধ্যমে প্রতিকার পাবেন।

ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আইনে আরও বলা হয়েছে যে, জনস্বার্থের বিষয় না হলে কোনো ব্যক্তির কোনো তথ্য প্রকাশ করা যাবে না। ১৮৯৮ সালের ফৌজদারি কোডের বিধান অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট অপরাধ তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে। এতে আরও বলা হয়েছে, যারা মিথ্যা ও অসত্য তথ্য প্রকাশ করবে তাদের জরিমানা ও কারাদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হতে হবে।

জরিমানার পরিমাণ ক্ষতিগ্রস্থ ব্যক্তিকে জরিমানা হিসাবে প্রদান করা হবে। মিথ্যা তথ্য প্রকাশকারী ব্যক্তি যদি সরকারি কর্মকর্তা হন, আইনে বলা আছে যে তার বিরুদ্ধে উল্লিখিত জরিমানা ছাড়াও বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে। এছাড়া ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন-২০১৮-এর ১৭, ১৮, ১৯ এবং ২০ ধারায় তথ্য পাচার, চুরি, তথ্য সংরক্ষণে প্রবেশ, তথ্য সংরক্ষণের ক্ষতি, ক্ষতির চেষ্টা, একই অপরাধের পুনরাবৃত্তির শাস্তির বিধান রয়েছে।

তথ্য প্রকাশ (সুরক্ষা) আইন ২০১১-এর ধারা ৯ বলে যে তথ্যের সত্যতা সম্পর্কে সম্পূর্ণরূপে সন্তুষ্ট না হয়ে জেনেশুনে মিথ্যা বা কোনো তথ্য প্রকাশ করা বা ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো ভিত্তিহীন তথ্য প্রকাশ করা বেআইনি। যে তথ্যের ভিত্তিতে এই আইনের অধীনে তদন্ত বা মামলা পরিচালনার সম্ভাবনা রয়েছে, সেগুলি মিথ্যা তথ্য প্রকাশ করেছে বলে গণ্য হবে।

যে ব্যক্তি কোনো নাগরিকের কোনো গোপন তথ্য প্রকাশ করেন তিনি এই আইনের অধীনে অপরাধ করেছেন বলে গণ্য হবে এবং এই ধরনের অপরাধের জন্য তাকে ২ বছরের বেশি নয় মেয়াদের সশ্রম কারাদণ্ড বা ৫ বছরের বেশি নয় মেয়াদের জন্য অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করা হবে, অথবা উভয়ের সাথে সরকারি কর্মকর্তা তথ্য প্রকাশ করলে এবং তিনি কোনো মিথ্যা তথ্য প্রকাশ করলে তার বিরুদ্ধে জরিমানা ছাড়াও বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। তবে কারাদণ্ড নির্ধারিত থাকলেও জরিমানার পরিমাণ অর্থাৎ কত টাকা জরিমানা হবে সে বিষয়ে আইনে কোনো উল্লেখ নেই।

আইনের ১০ ধারায় বলা হয়েছে, জনস্বার্থের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নয় এমন তথ্য মিথ্যা জেনে বা তথ্যের সত্যতা সম্পর্কে সম্পূর্ণরূপে নিশ্চিত না হয়ে কোনো তথ্য প্রকাশ করলে, যে তথ্যের ভিত্তিতে এই আইনের অধীন তদন্ত বা বিচারকার্য পরিচালিত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে, তিনি মিথ্যা তথ্য প্রকাশ করেছেন বলে গণ্য হবেন। কোনো তথ্য প্রকাশকারী কোনো মিথ্যা তথ্য প্রকাশ করলে তিনি এই আইনের অধীন অপরাধ করেছেন বলে গণ্য হবেন এবং ওই অপরাধের জন্য তিনি অন্যূন ২ বছর বা অনধিক ৫ বছর সশ্রম কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবে।

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে যা বলা হয়েছে : ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ১৭(১) ধারায় বলা হয়েছে, যদি কোনো ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে বা জ্ঞাতসারে কোনো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পরিকাঠামোতে বেআইনিভাবে প্রবেশ করেন, বেআইনি প্রবেশ করে রক্ষিত তথ্যের ক্ষতিসাধন বা বিনষ্ট বা অকার্যকর করেন অথবা করার চেষ্টা করেন তাহলে ওই ব্যক্তির অনুরূপ কাজ অপরাধ হিসাবে গণ্য হবে। শুধু বেআইনি প্রবেশের অপরাধে সর্বোচ্চ ৭ বছরের কারাদণ্ড অথবা সর্বোচ্চ ২৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হবে। আর বেআইনি প্রবেশ করে তথ্যের ক্ষতিসাধনের অপরাধে সর্বোচ্চ ১৪ বছর কারাদণ্ড বা ১ কোটি টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবে। যদি একই অপরাধের পুনরাবৃত্তি হয় তাহলে অপরাধীর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বা ৫ কোটি টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবে।

আইনের ১৮(১) ধারায় কম্পিউটার, ডিজিটাল ডিভাইস, কম্পিউটার সিস্টেম, ইত্যাদিতে বেআইনিভাবে প্রবেশের দণ্ডের বিষয়ে বলা হয়, যদি কোনো ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো কম্পিউটার, কম্পিউটার সিস্টেম বা কম্পিউটার নেটওয়ার্কে বেআইনি প্রবেশ করেন বা প্রবেশ করতে সহায়তা করেন। অপরাধ সংঘটনের উদ্দেশ্যে বেআইনি প্রবেশ করেন বা প্রবেশ করতে সহায়তা করেন, তাহা হইলে উক্ত ব্যক্তির অনুরূপ কাজ একটি অপরাধ হিসাবে গণ্য হবে। কোনো ব্যক্তি ডিজিটাল সিস্টেমে প্রবেশের অপরাধ করলে তিনি সর্বোচ্চ ৬ মাস কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ ২ লাখ টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবে। কোনো ব্যক্তি ডিজিটাল সিস্টেমে প্রবেশ করে কোনো অপরাধ করলে তিনি সর্বোচ্চ ৩ বছর কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।

যদি কেউ সংরক্ষিত কম্পিউটার বা কম্পিউটার সিস্টেম বা কম্পিউটার নেটওয়ার্কের ক্ষেত্রে অপরাধ সংঘটিত হয়, তাহা হইলে তিনি সর্বোচ্চ ৩ বছর কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবে। যদি একই অপরাধের পুনরাবৃত্তি হয়, তাহা হইলে মূল অপরাধের জন্য যে দণ্ড নির্ধারিত করা আছে, তা দ্বিগুণ করে কারাদণ্ড অথবা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হবে।

আরও পড়তে

তদন্ত প্রতিবেদনে উঠে এলো তথ্য ফাঁসের মূল কারণ, অদক্ষ অপর্যাপ্ত জনবলই মূল কারণ

আইনের ১৯ ধারায় কম্পিউটার, (ক)কম্পিউটার সিস্টেম, ইত্যাদির ক্ষতিসাধনের দণ্ডের বিষয়ে বলা হয়েছে, যদি কোনো ব্যক্তি উল্লিখিত কোনো অপরাধ সংঘটন করেন, তাহা হইলে তিনি সর্বোচ্চ ৭ বছর কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবে। একই অপরাধের পুনরাবৃত্তি করলে সর্বোচ্চ ১০ বছর কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ ২৫ লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবে।

কম্পিউটার সোর্স কোড পরিবর্তন সংক্রান্ত অপরাধের দণ্ডের বিষয়ে আইনের ২০ ধারায় বলা হয়, যদি কোনো ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে বা জ্ঞাতসারে কোনো কম্পিউটার প্রোগ্রাম, কম্পিউটার সিস্টেম বা কম্পিউটার নেটওয়ার্কে ব্যবহৃত কম্পিউটার সোর্স কোড গোপন, ধ্বংস বা পরিবর্তন করেন বা অন্য কোনো ব্যক্তির মাধ্যমে উক্ত কোড, প্রোগ্রাম, সিস্টেম বা নেটওয়ার্ক গোপন, ধ্বংস বা পরিবর্তন করার চেষ্টা করেন এবং উক্ত সোর্স কোডটি যদি সংরক্ষণযোগ্য বা রক্ষণাবেক্ষণ যোগ্য হয়, তা হলে এ ধরনের কাজ অপরাধ হিসাবে গণ্য হবে। কোনো অপরাধ সংঘটনের অপরাধে সর্বোচ্চ ৩ বছরের কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ ৩ লাখ টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করা হবে। একই অপরাধের পুনরাবৃত্তি হলে সর্বোচ্চ ৫ বছরের কারাদণ্ড অথবা সর্বোচ্চ ৫ লাখ টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।

    Leave a Reply

    Your email address will not be published.

    X