June 19, 2024

Warning: Undefined array key "tv_link" in /home/admin/web/timetvusa.com/public_html/wp-content/themes/time-tv/template-parts/header/mobile-topbar.php on line 53
তীরে এসে ডুবল বাংলাদেশের ক্রিকেট তরী

তীরে এসে ডুবল বাংলাদেশের ক্রিকেট তরী

তীরে এসে ডুবল বাংলাদেশের ক্রিকেট তরী

তীরে এসে ডুবল বাংলাদেশের ক্রিকেট তরী

পাকিস্তানের মতো দুর্ভাগ্যই  সত্য হলো বাংলাদেশের। সেটাও আবার ছিল একই মাঠ একই ভেন্যু। যেন তীরে এসে নৌকা ডুবল বাংলাদেশের।

নিউইয়র্কের নাসাউ কাউন্টি ক্রিকেট স্টেডিয়ামে পাকিস্তানের আগের দিন জেতা উচিত ছিল। ১২০ রান তাড়া করতে নেমে ৬ রানে হেরেছে পাকিস্তান। গতকাল একই ভেন্যুতে একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি করে ফেলে  বাংলাদেশ। বাংলাদেশের লক্ষ্য মাত্র ১১৪ রান । ৫০ রানে চার উইকেট হারানো সত্ত্বেও, তাওহীদ হৃদয় এবং মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ বাংলাদেশের আশা বাঁচিয়ে রেখেছে। ব্যাট হাতে শেষ তিন ওভারে জয়ের জন্য প্রয়োজন ২০ রান। তখনই আম্পায়ারের ডাকের শিকার হন তাওহীদ হৃদয়। এরপর ম্যাচকে শেষ ওভারে নিয়ে যান জাকের আলী ও রিয়াদ। কেশব মহারাজের শেষ ওভারে ১১ রান করতে পারেনি বাংলাদেশ। বাঁহাতি স্পিনার, তিনটি ফুলটস দেওয়া, ২ উইকেট এবং মাত্র ৬ রান।

নিউইয়র্কের সব রাস্তাই নাসাউ কাউন্টির মানুষের ভিড়ে লোকারণ্য  ছিল। স্টেডিয়ামের গ্যালারি সাজানো হয়েছিল লাল-সবুজে। বিশ্বকাপ ভেন্যুতে চিত্রায়িত হয়েছে বাংলার মুখ। জয় দেখতে অধীর আগ্রহে এসেছিলেন ভক্তরা । প্রবাসীদের খুশির উপহার দিতে পারেননি নাজমুল হোসেন শান্তরা।

নাসাউ স্টেডিয়ামে পিচের ড্রপ ইন লো স্কোরিং ম্যাচে বাংলাদেশ ৪ রানে হেরেছে। জিততে শেষ ওভারে করতে হয়েছিল ১১ রান। আশার ভেলা ভাসিয়েছেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। পঞ্চম বলে লং অন দিয়ে উড়িয়ে দেন মাহমুদউল্লাহ। সবাই সীমান্ত দেখে উচ্ছ্বসিত। কিন্তু বল বাউন্ডারিতে মার্করামের হাতে ধরা পড়েন। এতে বিজয়ের শেষ প্রদীপ নিভে গেল।

প্রথম দুই বলে আসে চার রান। তৃতীয় বলে ছক্কা মারার চেষ্টায় লং-অনে ক্যাচ দিয়ে আউট হন জাকের আলী। পরের বলে দক্ষিণ আফ্রিকার রিভিউ বাতিল হলে বেঁচে যান রিশাদ হোসেন। ওভারের পঞ্চম বলে লো ফুলটসে  ছক্কা মারতে গিয়ে বাউন্ডারিতে মাকরামের হাতে ধরা পড়েন মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। শেষ বলে সুযোগ পেয়েছিলেন তাসকিন আহমেদ। ছক্কা মারলেই ম্যাচ জিতে যায় বাংলাদেশ। পূর্ণাঙ্গ এক রানের বেশি করতে পারেননি এই পেসার। শেষ পর্যন্ত হেরেছে ৪ রানে। সাথে সাথে নাসাউতে নেমে আসে রাজ্যের নীরবতা।

শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে এই ম্যাচে জয় পেলেই শেষ আটে নিশ্চিত হয়ে যেত টাইগাররা। তবে আশা এখনো শেষ হয়নি। নেদারল্যান্ড ও নেপালকে হারাতে পারলেই স্বপ্ন পূরণ হবে ওয়েস্ট ইন্ডিজের। আলোচনা আছে, এই ম্যাচ হারের দায় কার! ম্যাচটা সত্যি কখন হেরে গেল? সাকিব ও শান্তর বাজে শটে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ হারায় টাইগাররা। নর্কিয়ার করা অষ্টম ওভারের চতুর্থ বলে নিজের উইকেট তুলে দেন সাকিব। ম্যাচের দশম ওভারের শেষ বলেও তাই করলেন শান্ত। শান্ত ২৩ বলে এক ছক্কায় ১৪ রান করেন। সাকিব ফেরেন ৫ বলে ৪ রান করে। তাদের বিদায়ে পঞ্চম উইকেটে তাওহীদ হৃদয় ও মাহমুদুল্লাহ রিয়াদের লড়াই বাংলাদেশকে আটকে রাখলেও আম্পায়ারের দুই সিদ্ধান্তে ম্যাচ থেকে ছিটকে যায় বাংলাদেশ। এতে আউট হওয়ার নিশ্চয়তা পায়নি টাইগাররা। ইনিংসের ১৭ তম ওভারে এটি ঘটেছিল। ওভারের দ্বিতীয় বলটি মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের পায়ে লেগে বল চলে যায় বাউন্ডারিতে। কিন্তু বোলারের অনুরোধে আম্পায়ার আউট দেন। রিয়াদ রিভিউ নেন এবং রিপ্লেতে দেখা যায় বল স্টাম্প মিস করেছে। কিন্তু আম্পায়ার আউট দেওয়ায় ওই চার রান বাংলাদেশের স্কোরবোর্ডে যোগ হয়নি। শেষ পর্যন্ত হারের ব্যবধানে সেই ৮ রান। মাহমুদউল্লাহ বেঁচে গেলেও আম্পায়ারের ডাকে এই যাত্রায়  হৃদয় এর রক্ষা হয়নি।

যদিও রাবাদার আবেদন তেমন জোরালো ছিল না। কিন্তু আম্পায়ার রিচার্ড ইলিংওয়ার্থ এলবি দেন। রিভিউতে দেখা যায় বলটি লেগ স্টাম্পের উপরের অংশ স্পর্শ করেছে। ভাগ্য সহায় না হওয়ায় ৩৪ বলে ৩৭ রান করে ফেরেন হৃদয়। ১৯.৫তম ওভারে কেশব মহারাজের বলে ছক্কা হাঁকাতে গিয়ে বাউন্ডারিতে ক্যাচ দেন মাহমুদউল্লাহ। ২৭ বলে ২০ রান করেন এই ব্যাটসম্যান।

এর আগে নিউইয়র্কের নাসাউ কাউন্টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে টস হেরে প্রথমে ফিল্ডিং করে বাংলাদেশ। বাংলাদেশের তানজিম হাসানের দ্বিতীয় বলে ছক্কা এবং ইনিংসের প্রথম ওভারের তৃতীয় বলে একটি চার মারেন দক্ষিণ আফ্রিকার ওপেনার কুইন্টন ডি কক। তবে ওভারের শেষ বলে খালি হাতে আরেক ওপেনার রেজা হেনড্রিকসকে আউট করেন তানজিম। দ্বিতীয় ওভারেও উইকেট পেয়ে খুশি তানজিম। ১১বলে ১৮রান করা ডি কককে বোল্ড করেন তানজিম। ইনিংসের চতুর্থ ওভারে উইকেট শিকারি হন তাসকিন। আফ্রিকার অধিনায়ক আইডেন মার্করামক ৪ রানের সময় বোল্ড করেন তাসকিন। প্রথম দুই ওভারে উইকেট নিয়ে তানজিম তার ঝলক অব্যাহত রাখেন। তৃতীয় ওভারে সাকিব আল হাসানের বলে ক্যাচ দিয়ে মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান ট্রিস্টান স্টাবসকে খালি হাতে ড্রেসিংরুমে ফেরত পাঠান তানজিম। পঞ্চম ওভারে ২৩ রানে ৪ উইকেট খোয়ায়  দক্ষিণ আফ্রিকা।

এর মাধ্যমে চতুর্থবারের মতো বিশ্বকাপে পাওয়ার প্লেতে প্রতিপক্ষের ৪ উইকেট তুলে নেয় বাংলাদেশ। তবে এই পরিস্থিতিতে জুটি গড়ার চেষ্টা করেন হেনরিখ ক্লাসেন ও ডেভিড মিলার। ১০ ওভার শেষে দলের রান তুলেছে ৫৭ রান। ততক্ষণে ক্লাসেন ও মিলার উইকেটে সেট হয়ে গেছেন। ১১তম ওভারে প্রথমবারের মতো বোলিং আক্রমণে আসেন স্পিনার মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। প্রথম ডেলিভারিতে মিলারকে আউট করেন রিয়াদ। কিন্তু উইকেটের পেছনে মিলারকে ক্যাচ দিতে পারেননি লিটন দাস। ১৭ তম ওভারে ক্লাসেন জীবন পেয়ে দলের ১০০ রান পেরিয়ে যান মিলার।

ক্লাসেন এবং মিলার ডেথ ওভারে আক্রমণ করার পরিকল্পনা করেছিলেন। কিন্তু ১৮তম ওভারের তৃতীয় বলে ক্লাসেনের উইকেট নেন তাসকিন। ক্লাসেন ৪৪ বলে ২ চার ও ৩ ছক্কায় দলীয় সর্বোচ্চ ৪৬ রান করেন। পরের ওভারে মিলারকে বোল্ড করেন রিশাদ। মিলার ৩৮ বলে ১ চার-ছক্কায় ২৯ রান করেন। পঞ্চম উইকেটে ৭৯ বলে ৭৯ রান যোগ করেন ক্লাসেন-মিলার। দলের ১০৬ রানে ক্লাসেন ও মিলার ফেরার পর ইনিংসের বাকি ১০ বলে ৭ রানের বেশি যোগ করতে পারেনি দক্ষিণ আফ্রিকা। প্রোটিয়ারা ২০ ওভারে ৬ উইকেটে ১১৩ রান সংগ্রহ করে।

তানজিম ১৮ রানে ৩ উইকেট এবং তাসকিন ৪ ওভার বল করার পর ১৯ রানে ২ উইকেট নেন। ৮ টি-টোয়েন্টি ম্যাচে ক্যারিয়ার সেরা বোলিং করেছেন তানজিম।

আরও জানতে

ক্রিকেটারদের চুইংগাম চিবানোর রহস্য

 

    Leave a Reply

    Your email address will not be published.

    X