মরক্কোতে ২ হাজারের বেশি নিহত হয়েছে

মরক্কোতে ২ হাজারের বেশি নিহত হয়েছে

মরক্কোতে ২ হাজারের বেশি নিহত হয়েছে

মরক্কোতে ২ হাজারের বেশি নিহত হয়েছে

মরক্কো বা আরবি: আল-মামলাকাতুল মাগরিবিয়া; উত্তর আফ্রিকার একটি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ। এর রাজধানীর নাম রাবাত। এটি আটলান্টিক মহাসাগর জুড়ে এবং উত্তরে ভূমধ্যসাগরের জিব্রাল্টার প্রণালী পর্যন্ত বিস্তৃত। মরক্কোর পূর্বে আলজেরিয়া, উত্তরে ভূমধ্যসাগর ও স্পেন এবং পশ্চিমে আটলান্টিক মহাসাগর। দেশটির দক্ষিণ সীমান্ত বিতর্কিত। মরক্কো পশ্চিম সাহারার মালিকানা দাবি করে এবং ১৯৭৫ সাল থেকে পশ্চিম সাহারার অধিকাংশ দখল করেছে।

মরক্কো একটি সাংবিধানিক রাজতন্ত্র। দেশটি একমাত্র আফ্রিকান দেশ যেটি আফ্রিকান ইউনিয়নের সদস্য নয়। দেশটি আরব লীগ, আরব মাগরেব ইউনিয়ন, ওআইসি, গ্রুপ অফ ৭৭ ইত্যাদির সদস্য এবং আফ্রিকায় ন্যাটোর মিত্র।

মাগরেব বা মরক্কোর মুসলিম বিজয় ৭ম শতাব্দীর মাঝামাঝি উমাইয়া খিলাফতের সময় হয়েছিল। এই বিজয় মাগরেবে ইসলাম এবং আরবি ভাষা উভয়ই নিয়ে আসে। যাইহোক, বৃহত্তর ইসলামী সাম্রাজ্যের অংশ হিসাবে, মরক্কো প্রাথমিকভাবে ইফ্রিক্যা প্রদেশ হিসাবে সংগঠিত হয়েছিল এবং সাম্রাজ্য দ্বারা নিযুক্ত একজন গভর্নর দ্বারা শাসন করা হয়েছিল। হয়।ইসলাম আগমনের ফলে আদিবাসী বার্বার উপজাতিরা ইসলাম গ্রহণ করে। তারা মুসলিম প্রশাসনকে ইসলামি আর্থিক কর (জাকাত) ও শ্রদ্ধা প্রদান করতঃ কল্যাণমূলকে ইসলামী শাসনকে মরক্কের সকল অধিবাসীরা স্বাগত জানায় ।  এবং ইসলামী শাসনের ফলে তারা শান্তিপূর্ণ জীবন যাপন করতে থাকে।আর ইসলামী শাসনের ফলে তারা শান্তিপূর্ণ জীবনযাপন করে।

উত্তর আফ্রিকার এই দেশটিতে ভয়াবহ ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা দুই হাজার ছাড়িয়েছে। ভয়াবহ এই ভূমিকম্পে আহত হয়েছেন আরও বহু-সংখ্যক মানুষ। বহু ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে।

গত শুক্রবার মরক্কোর মধ্যাঞ্চলে ৬ দশমিক ৮ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে।

মরক্কোর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলছে, ভূমিকম্পে আহত দুই হাজার মানুষের মধ্যে ১,৪০০ জনেরও বেশি গুরুতর আহত। আর নিহতদের বেশিরভাগই মারাকেশের দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রদেশে।

রাজা ষষ্ঠ মোহাম্মদ দেশে তিন দিনের জাতীয় শোক ঘোষণা করেছেন এবং বিধ্বংসী ভূমিকম্প ও হতাহতের পরিপ্রেক্ষিতে বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিদের জন্য আশ্রয়, খাদ্য ও অন্যান্য সাহায্যের নির্দেশ দিয়েছেন। তবে ভূমিকম্পে ঘরবাড়ি হারানো অনেকেই টানা দ্বিতীয় রাত খোলা জায়গায় কাটাচ্ছেন।

মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ অনুসারে, শুক্রবার রাতে আঘাত হানা ভূমিকম্পের উৎপত্তি ছিল মারাকেশ শহর থেকে ৭১কিলোমিটার দূরে আটলাস পর্বতমালার ১৮.৫  কিলোমিটার গভীরে। স্থানীয় সময় রাত ১১টা ১১ মিনিটে ভূমিকম্প আঘাত হানার পর মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে রাস্তায় নেমে আসে।

এছাড়া ভূমিকম্পের ১৯ মিনিট পর আবারও ৪.৯ মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হয়। দুর্গম পাহাড়ি এলাকার বেশ কিছু গ্রাম সম্পূর্ণরূপে সমতল হয়ে গেছে বলে জানা গেছে। রাজধানী রাবাত ছাড়াও কাসাব্লাঙ্কা, আগাদির এবং এসাউইরাতেও কম্পন অনুভূত হয়েছে।

মরক্কোর অভ্যন্তরীণ মন্ত্রণালয়  বলেছে যে,  দেশের আল হাউজ প্রদেশে সর্বাধিক সংখ্যক প্রাণহানি ঘটেছে। মারাকেশেমৃতের সংখ্যা অনেক কম ছিল, যদিও ইউনেস্কো-সুরক্ষিত ওল্ড সিটিরও ভূমিকম্পে যথেষ্ট ক্ষতি হয়েছে।

গত শুক্রবার মধ্য মরক্কোতে ৬.৮ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। রোববার (১০ সেপ্টেম্বর) পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ১২ জনে। আহত হয়েছেন অন্তত ২০৬৯ জন। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানিয়েছে।

দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতি অনুযায়ী, আহতদের মধ্যে ১,৪০৪ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।  দেশের মানুষ এখন আফটারশকের আতঙ্কে রয়েছে। তা নিয়ে তারা বাড়ি ফিরছেন না। রাস্তায় দিনরাত কাটছে।

এত প্রাণহানির ঘটনায় দেশে তিন দিনের জাতীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে। উদ্ধারকারীরা এখন বাড়িঘর এবং দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় ধ্বংসস্তূপে অনুসন্ধান অভিযান জোরদার করেছে।

ভূমিকম্পের কেন্দ্রের কাছে তাফেগেজ গ্রামে কোনও বাড়িঘর অবশিষ্ট নেই। গ্রামের বাসিন্দা ওমর বেনহান্না (৭২) বার্তা সংস্থা কে বলেছেন, “আমার তিন নাতি এবং তাদের মা মারা গেছে এবং তারা এখনও ধ্বংসস্তূপের নিচে রয়েছে।” এর কিছুক্ষণ আগেই আমরা একসঙ্গে খেলছিলাম। ।

গত শুক্রবারের শক্তিশালী ভূমিকম্পে মারাকেশের বিখ্যাত জেমা আল-ফেনা মসজিদও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মসজিদটি অনেক ঐতিহাসিক ভবন এবং জনপ্রিয় ক্যাফে এবং রেস্টুরেন্ট দ্বারা বেষ্টিত ছিল।

দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী আল হুজ, মারাকেশ, আজিলালসহ বেশ কয়েকটি শহরে বহু মানুষ মারা গেছেন। এই সংখ্যা নির্ধারণ করতে আরও কয়েকদিন সময় লাগবে। এছাড়া আরও অনেককে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

আবদেলহক আল আমরানি বলেছেন, মানুষ আতঙ্কিত ও আতঙ্কিত। শিশুরা কাঁদছে এবং তাদের বাবা-মা দিশেহারা।

উল্লেখ্য, মরক্কো এর আগেও বেশ কয়েকটি বড় ভূমিকম্পে আঘাত হেনেছে।

২০০৪ সালে, দেশটির উত্তর-পূর্বে আল হোসেইমা অঞ্চলে ভূমিকম্পে ৬২৮জন মারা গিয়েছিল।এবং ১৯৬০ সালে, আগাদির অঞ্চলে একটি ভয়ানক ভূমিকম্পে কমপক্ষে ১২০০০ লোক মারা গিয়েছিল।

এ থেকে ধারণা করা যায়, এই ভূমিকম্পে হতাহতের সংখ্যা অনেকাংশে বাড়তে পারে।মরক্কোতে গতকালের ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল ছিল আটলাস পর্বতমালা। এই অঞ্চলে অনেক প্রত্যন্ত গ্রাম রয়েছে যেখানে পৌঁছানো বেশ কঠিন।

তাই এই ভূমিকম্পে প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতি কী তা নিশ্চিত হতে আরও কয়েক দিন লাগতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

    Leave a Reply

    Your email address will not be published.

    X