মালয়েশিয়ায় ১ লাখ ৯১ হাজার অ্যাসাইলামের জন্য নিবন্ধিত
আরিফুল ইসলাম, মালয়েশিয়া
চলতি বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মালয়েশিয়ায় জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনারের (ইউএনএইচসিআর) দপ্তরে মোট ১৯১,৮৩২ জন অ্যাসাইলামের জন্য নিবন্ধিত হয়েছে।
মালয়েশিয়ার সরকারি সংবাদ সংস্থা বারনামা, দেশটির ফেডারেল টেরিটরিজ মিনিস্টার (প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের) মন্ত্রী ড. জালিহা মুস্তাফার উদ্ধৃতি দিয়ে জানিয়েছে, এর মধ্যে সবচেয়ে বড় অংশ মিয়ানমারের, যাদের সংখ্যা ১,৬৮,৮১৩ জন, যা মোট সংখ্যার ৮৮ শতাংশ। এরপর পাকিস্তানের ৫,৭৫৫ জন (৩ শতাংশ) এবং ইয়েমেনের ৩,৮৩৭ জন (২ শতাংশ)। আফগানিস্তান ও সোমালিয়ার শরণার্থী সংখ্যা প্রায় সমান। প্রতিটি দেশের প্রায় ১,৯১৮ জন (১ শতাংশ) এবং অন্য দেশগুলোর শরণার্থী ও আশ্রয়প্রার্থী মিলে মালয়েশিয়ায় মোট শরণার্থীদের ৫ শতাংশ।
তিনি এই তথ্য একটি লিখিত জবাবে উল্লেখ করেছেন, যা দেশটির পার্লামেন্টের ওয়েবসাইটে আপলোড করা হয়েছে। তিনি সিনেটর রিতা সারিমাহ প্যাট্রিক ইনসোলের প্রশ্নের জবাবে এই তথ্য দেন, যেখানে তিনি মালয়েশিয়ায় বিভিন্ন দেশের শরণার্থীদের সংখ্যা এবং তাদের উপস্থিতি থেকে উদ্ভূত সামাজিক-অর্থনৈতিক সমস্যা মোকাবেলার পরিকল্পনা জানতে চেয়েছিলেন।
তবে কতজন বাংলাদেশি অ্যাসাইলামের জন্য রেজিস্ট্রেশন করেছেন তা জানাননি মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের মন্ত্রী ড. জালিহা মুস্তাফার।
সরকার বর্তমানে জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিলের (এনএসসি) নির্দেশিকা নম্বর ২৩: শরণার্থী ও আশ্রয়প্রার্থীদের ব্যবস্থাপনার নীতি ও কার্যপ্রণালী (২০২৩ সংস্করণ) বাস্তবায়ন করছে। এই নির্দেশিকাটি প্রধানমন্ত্রী গত ১৪ জুন, ২০২৩ তারিখে স্বাক্ষর করেছিলেন বলে জানিয়েছেন ড. জালিহা।
তিনি আরও বলেছেন, এই নির্দেশিকায় শরণার্থী ও আশ্রয়প্রার্থীদের ব্যবস্থাপনার কৌশল, সরকার কর্তৃক শরণার্থী মর্যাদা নির্ধারণের বিস্তারিত পদ্ধতি, তাদের বিষয়ে আইন প্রয়োগ এবং সামাজিক সহায়তা ব্যবস্থার উল্লেখ রয়েছে। “এই নির্দেশিকার কার্যক্রম বাস্তবায়নের আগে সরকারকে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে, একটি শরণার্থী নিবন্ধন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে, যা বিশেষভাবে মালয়েশিয়ায় এই গোষ্ঠীর তথ্য সংগ্রহে ব্যবহৃত হবে। এই তথ্য সংগ্রহের মাধ্যমে সরকার শরণার্থীদের কার্যক্রম ও অংশগ্রহণ নিয়ন্ত্রণ ও নজরদারি করতে পারবে এবং তাদের উপস্থিতি থেকে উদ্ভূত সামাজিক-অর্থনৈতিক সমস্যা মোকাবেলায় সক্ষম হবে"।